ঢাকা-যশোর তিনটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

যশোর ব্যুরো ঃ ঢাকা-যশোর পদ্মাসেতু রেল প্রকল্পে যশোর বাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে অবিলম্বে বেনাপোল/দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে একটি প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট তিনটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবিতে আগামী ৬ জুলাই যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। ৪ জুলাই শনিবার দুপুরে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেলপথে বর্তমানে দিনে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এতে প্রকল্পের পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রকল্পের নাম ঢাকা-যশোর হলেও অতীতে মূল যশোর শহরকে রেল সুবিধার বাইরে রেখে পদ্মবিলা স্টেশন কেন্দ্রিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে জনদাবির মুখে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা চালু হয়নি। নেতারা বলেন, যশোর থেকে ভোরে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে যাত্রীরা সকালে ঢাকায় গিয়ে অফিস-আদালত ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরতে পারবেন। এ দাবিকে সামনে রেখে তারা পান্তা খেয়ে ঢাকায় যাই রাতে বাড়ি ফিরতে চাই স্লোগানকে আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তারা জানান, ২০২৩ সাল থেকে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, রেল অবরোধ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি জানিয়ে আসছেন। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ সালের মধ্যে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আগামী ৬ জুলাই সোমবার বেলা ১টায় যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেনসহ তিনটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, সব আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ বগি বৃদ্ধি, দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে ডাবল রেললাইন নির্মাণ, কমিউটার ট্রেন চালু, সিঙ্গিয়া স্টেশনে ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) চালু এবং গণপরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে রেলকে গড়ে তুলতে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, আগামী ৬ জুলাইয়ের কর্মসূচির পরও দাবি বাস্তবায়ন না হলে যশোরবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে তারা কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।



