সম্পাদকীয়

নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে

# ডিজিটাল প্রতারণার জাল #

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দৈনন্দিন প্রায় প্রতিটি কর্মকা-ে গতি এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রতারকচক্রের নতুন হাতিয়ারও হয়ে উঠেছে। নিত্যনতুন কৌশলে তারা সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে অর্থ লোপাট করছে। নানা ধরনের সেবার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক সময় তথ্য চুরি করে, সেই তথ্য দিয়ে আবার ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। আবার অনেক সময় নিজেদের অজান্তেই সংবেদনশীল তথ্য কুচক্রীমহলের হাতে আমরাই তুলে দিচ্ছি। উদ্বেগের ব্যাপার হলো, বহু মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলেও নানা কারণে চুপ থাকে, থানায় অভিযোগ করে না। এতে ডিজিটাল প্রতারণা যতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে, তার অনেক কমই আমাদের সামনে আসছে। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন, বিদেশ গমন, ভিসা প্রসেসিং, চাকরি প্রদানসহ নানা সেবা প্রদানের জাল বিছিয়ে রেখেছে প্রতারকচক্র। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও তাদের হাত রয়েছে। তাদের ফাঁদে পড়া ভুক্তভোগী মো. আনিসুর রহমানের তিক্ত অভিজ্ঞতায় জানা গেছে, ‘প্রবাসী লোন বিডি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ঋণের বিজ্ঞাপন দেখে মেসেঞ্জারে ‘নক’ করলে তাঁকে প্রথমে সাত হাজার টাকা বিকাশ করতে বলা হয়। এভাবে ধাপে ধাপে ৪৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু সেই লাখ টাকার ঋণ আর মেলেনি। এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এ ছাড়া অনলাইনে জুয়ার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আর তাতে অনেকে নিঃস্ব হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা। খবরে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজনই সাইবার বুলিংয়ের শিকার। আবার অনেক ঘটনায় দেখা গেছে, প্রতারকচক্র প্রথমে আস্থা অর্জনের কৌশল নেয়, পরে সুযোগ বুঝে তরুণীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। এরপর তাদের জিম্মি করে। শুধু তরুণীরাই নয়, সব বয়সী মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। জানা গেছে, সম্মানহানির ভয়ে ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ নিয়ে থানায় পর্যন্ত যায় না। এ কারণে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে। অন্যদিকে পুলিশের পৃথক সাইবার ইউনিট না থাকায় এসব অপরাধ দমনে সক্ষমতাও আশানুরূপ নয়। বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত হলেও এর নিরাপত্তার দিকগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। অনেকে পাসওয়ার্ড সুরক্ষার প্রাথমিক নিয়মগুলোও জানে না। অন্যদিকে সাইবার অপরাধীরা অত্যন্ত চতুর এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ায় চটজলদি তাদের শনাক্ত করা কঠিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে সঠিক বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ চলতি বছরের ১১ মে পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। আমরা মনে করি, প্রতারণা থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে ডিজিটাল মাধ্যমের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে অনেক লক্ষ্য অর্জন করাই কঠিন হবে। সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমাদের পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরও প্রাথমিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button