জাতীয় সংবাদ

‘ককরোচ’ পার্টির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত ভারত, ইন্টারনেট বন্ধ

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি
ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতাসহ আটক অনেকেই

প্রবাহ ডেস্ক : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সোমবার (২০ জুলাই) দলটি দাবি করে, বিক্ষোভের তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দলের দাবি, যন্তর মন্তরের কাছে হাজারো সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মাঠপর্যায়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এক পোস্টে সিজেপি লিখেছে, আপনারা যদি ভাবেন কেন আমরা ঘটনাস্থল থেকে আরো বেশি আপডেট দিতে পারছি না, তার কারণ হলো কাপুরুষ কর্তৃপক্ষ শহরের কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।
আরেক পোস্টে দলটি জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার অসংখ্য অভিযোগ তারা পাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলে, এই কঠিন সময়ে আমরা সবাইকে তথ্য জানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। অনুগ্রহ করে সব সময় শান্ত থাকুন।
আরও এক বার্তায় সিজেপি মন্তব্য করে, আপনারা ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারেন, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের চোখ ও কান কীভাবে বন্ধ করবেন? তারা যা দেখছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবে।
এদিকে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে যন্তর মন্তর ও পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এর আগে দিল্লি পুলিশ জানায়, প্রস্তাবিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নিউ দিল্লি জেলায় জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এদিকে, মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ থেকে অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করেছে। বিনা অনুমতিতে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করা হয়েছে।
একই সময়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে। ফলে সোমবার দিনভর দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে উত্তাল।
সোমবার (২০ জুলাই) সংসদ অভিযান কর্মসূচি ঘিরে হাজারো আন্দোলনকারী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সমাজবাদী পার্টির এমপি এবং অখিলেশ যাদবের স্ত্রী ডিম্পল যাদবকেও পুলিশ আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করার সময় তাকে ও আরও বেশ কয়েকজন সমাজবাদী পার্টির এমপিকে আটক করা হয়।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি অভিযোগ করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের নেতৃত্বকে দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনের দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তারা একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। নাড্ডা বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করছেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সোমবার তার অনশন শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button