স্থানীয় সংবাদ

জুলাই স্মরণে খুলনায় জামায়াতের মহিলা বিভাগের আলোচনা সভা

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বেগম সামসুন নাহার বলেন, রক্তাক্ত জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রত্যক্ষ করেছি। এই আন্দোলনের শহীদদের আদর্শ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। তাদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে হলে দেশে একটি আদর্শিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে জুলাই স্মরণে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি নফিসা সিদ্দিকা ও রেবেকা ইসলামের পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য বেগম নাজমুন নাহার, বেগম রেজাউন নেছা, ডা. জাকিয়া ফেরদৌসী, ইঞ্জিনিয়ার সাওয়ারা সাইয়্যেদা, এপিসি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দিল আফরোজ, আইননুন নাহার আঞ্জু, তাসনিয়া, আসমা, ফাতিমা হক লাকি, হালিমাতুস সাদিয়া প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে শিল্পীদের সমন্বয়ে জুলাই ডকুমেন্টারি ও গীতা আল্লেখ্য পরিবেশন করা হয়।
মহানগরী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আরও বলেন, জুলাই আমাদের জাতীয় চেতনা ও সংহতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, যা এখনো আমাদের মাঝে অম্লান। হাজারো ছাত্র-জনতা ও শিশুর আত্মত্যাগ আমাদেরকে ঋণী করে গিয়েছেন। আমরা জুলাই শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী ভাই-বোনদের কখনো ভুলে যেতে পারি না। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থী সাহসী যুবকের বাতিঘর শহীদ আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে ফ্যাসিবাদকে সেই দিন চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তাঁর বুকে বুলেট হজম করে এদেশের লাখো-কোটি তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতার প্রেরণায় উজ্জীবিত করেছিল। প্রাণে-প্রাণে সাহস জুগিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত করেছিল। তাঁর সাথে শহীদ সাকিব রায়হান, ইয়াসিন শেখ, মুগ্ধসহ ১৪ শ’ ছাত্র-জনতা ও শিশু জীবন উৎসর্গ করে সার্বভৌম বাংলাদেশের বীজ বপন করেছিল। আমরা সকল শহীদদের অবদান, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাদের জন্য উত্তম প্রতিদান কামনা করছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button