জমে উঠেছে খুলনার বৃক্ষমেলা

# বইয়ের স্টল নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সার্কিট হাউস মাঠের টেনিস গ্রাউন্ডের পাশে চলছে মাস ব্যাপী বৃক্ষমেলা। জাতীয় গাছ আম, জাতীয় ফল কাঁঠাল, আর ফুলের রাণী গোলাপসহ দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রজাতির গাছগাছালিতে সেজে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। তরুণ প্রজন্মকে গাছের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং আগামীর সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এ মেলা ইতিমধ্যে দর্শনার্থীদের দারুণ সাড়া ফেলেছে। তবে এবারের শ্লোগানের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে গাছ লাগাই, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করি। এই বিষয়টি মাথায় নিয়ে বৃক্ষ মেলায় দেয়া হয়েছে বইয়ের স্টল। সবার নজরও কেড়েছে। কারণ বৃক্ষ কেনার পর তা কিভাবে পরিচর্যা করতে হবে তার দিক নির্দেশনামূলক বই রয়েছে এই স্টলে। দেশী, ফলজ, বনজ, ওষুধী আর বিদেশী গাছ কিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করবে তার সব কিছুই রয়েছে এই বই স্টলের বইতে। এতে করে ক্রেতারা গাছ ক্রয়ের পাশাপাশি বইও কিনছেন। স্টলের নাম দেয়া হয়েছে আসফিয়া লাইব্রেরী। স্টল মালিক কেএম তুহিন বাবু বলেন, গাছের পাশাপাশি ক্রেতারা সমানভাবে বই নিচ্ছে। কারণ এই বই পড়েই তারা গাছের পরিচর্যা করবেন। গাছ পরিচর্যা করার জন্য তার স্টলে হরেক রকমের বই রাখা রয়েছে। বই বিক্রিও বেশ জমেছে বলে বাবু জানান। গত ১১জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এবারের মেলা। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিনা টিকিটে সবার জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় অংশ নিয়েছে ৬২টি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে ৫টি সরকারি। মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ফলজ ও ফুলের চারা। রবিবার বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেলায় দেশি ফলের মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, লটকন, জাম, সফেদা, কাজুবাদাম, করমচা, জামরুল, আমলকী, আতা, গাব, জলপাই ও আঙুর। আর বিদেশি ফলের চারার মধ্যে রয়েছে অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, পার্সিমন, লঙ্গান, ডুরিয়ান। বিভিন্ন নার্সারিতে শ্রীলঙ্কা, কেরালা ও ভিয়েতনামি জাতের নারকেল চারা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মেলায় আছে এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা, গোলমরিচ ও চুইঝালের মতো মসলা জাতীয় গাছ। ফুলপ্রেমীদের জন্য গোলাপ, জবা, বেলি, হাসনাহেনা, চামেলি, রঙ্গন, কাঠগোলাপ, মাধবীলতা, করবীসহ অসংখ্য প্রজাতির ফুলের চারা বিক্রি হচ্ছে স্টলজুড়ে। নয়নতারা নার্সারির বিক্রেতা জানান, “সবধরনের চারা ভালোই বিক্রি হচ্ছে, তবে আমের চারা একটু বেশি। বৃক্ষমেলায় ঘুরতে আসা নারী দর্শনার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘প্রতি বছর মেলায় আসি। এ বছর প্রথম আসলাম। বাসার সামনে অনেকটা ফাঁকা জায়গা আছে। আজ দেখে গেলাম, পরিকল্পনা করছি বাসার সামনে ওই ফাঁকা জায়গায় কি কি ফলজ আর ফুল গাছ লাগানো যায়, আগামী দিন এসে গাছ ক্রয় করবো। বেশ কয়েকটি পেয়ারা গাছ কিনেছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বৃক্ষমেলায় আসলেই মন ভালো হয়ে যায়। দু’টি পেয়ারা গাছ, একটি লেবু গাছ কিনলাম। মেয়ের জন্য ফুল গাছও কিনেছি।’ সুন্দরবনের স্টলে শোভা পাচ্ছে ম্যানগ্রোভ সিলভি কালচারের গাছ সুন্দরী, খলসী, গর্জন, পশুর, ধুন্দুল, এমনকি বাঘের খুলি ও সংরক্ষিত মাছও দেখানো হচ্ছে। সচেতনতামূলক লিফলেটও সরবরাহ করা হচ্ছে। খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি এসএম বদরুল আলম রয়্যাল বলেন, এ বছর মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সাড়া বেশ ভালো। প্রথম দিন থেকেই মেলায় বিক্রি হচ্ছে, প্রতিদিনিই বিক্রির পরিমান বাড়ছে। বৃক্ষমেলার মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে সুবজায়ন হবে।’ মাস ব্যাপী চলমান মেলা আগামী ১০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে ৬২টি স্টল রয়েছে। তার মধ্যে ৫৭টি মালিক সমিতির বাকী ৫টি সরকারি। তিনি মেলায় এসে নানা প্রজাতির বৃক্ষ কিনে দেশকে বাঁচানোর আহবান জানান।



