স্থানীয় সংবাদ

নৈতিকতা, সততা ও আল্লাহভীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নেতৃত্বই শ্রমিক সমাজের আস্থা অর্জন করতে পারে : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# খুলনায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বাছাইকৃত কর্মী শিক্ষাশিবির #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, নৈতিকতা, সততা ও আল্লাহভীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নেতৃত্বই শ্রমিক সমাজের আস্থা অর্জন করতে পারে। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আদর্শবান ও দায়িত্বশীল কর্মী তৈরি সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নানা ধরনের নৈতিক অবক্ষয়, অন্যায় ও বিভ্রান্তির মধ্যেও একজন কর্মীকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের পথে অবিচল থাকতে হবে। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা, আত্মসংযম ও চরিত্র গঠনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে যেমন উন্নত করবে, তেমনি সমাজেও ইতিবাচক পরিবর্তনের ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জ্ঞানচর্চা, আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি কর্মীকে সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে কর্মীদের মানোন্নয়ন ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাছাইকৃত কর্মী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান। মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামান এর পরিচালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মাস্টার শফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. আবু রুবাবা। পবিত্র কুরআনের তা’য়ালিম পরিচালনা করেন হাফেজ নাসরুল্লাহ ও হাফেজ মাওলানা গাজী আল-আমীন। অন্যান্যের মহানগরী সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান জুনায়েদ, খুলনা সদর থানা সহ-সভাপতি নাসিরুদ্দিন, মুরাদ সোহাগ, সোনাডাঙ্গা থানা সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, হরিণটানা থানা সভাপতি হেলাল উদ্দিন, বিআরইএল সভাপতি সাইফুল ইসলাম, পরিবহন শাখার সভাপতি কামাল হোসেন, খুলনা সদর থানা ফার্ণিচার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আলী হায়দার নিরু, শ্রমিকনেতা মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মহানগরী আমীর আর বলেন, শ্রমিকরাও এই দেশের সম্মানিত নাগরিক এবং তারাও ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করে। তাই তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকারগুলোর দায়ভার কেবল মালিকদের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না, বরং রাষ্ট্রকে এখানে সরাসরি অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বিশেষ করে শিল্প ও শ্রমঘন এলাকায় সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার ওপর জোর দেন এবং এসব চিকিৎসার ব্যয়ভার রাষ্ট্র ও মালিক পক্ষকে যৌথভাবে বহন করার পরামর্শ দেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানÑসবক্ষেত্রেই শ্রমিকদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি এক আবেগঘন তথ্যে জানান যে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশই ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রতিটি সরকারই শ্রমিকদের সামান্য দাবিগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, যারা ‘সোনার চামচ’ মুখে নিয়ে বড় হয়েছেন, তারা সাধারণ শ্রমিকের দুঃখ ও কষ্ট অনুধাবন করতে পারেন না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button