কদমতলীর কথিত টাকশালে অভিযান : জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ২

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজধানীর কদমতলীর একটি ভাড়া বাসায় গড়ে ওঠা কথিত জাল টাকার টাকশালে অভিযান চালিয়ে জাল নোট, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা জাল টাকা তৈরি করে ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে ছড়িয়ে দিত। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিটিটিসি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. শাহাব উদ্দিন (৪৩) ও হাজেরা আক্তার ঋতু (৩০)। পুলিশ জানায়, রোববার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলী থানার পলাশপুর গ্যাস রোডের ৫ নম্বর গলির একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ডিভিশনের একটি দল ওই বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় জাল টাকা তৈরির কাজে জড়িত অবস্থায় দুইজনকে আটক করা হয়। তিনি বলেন, অভিযানে তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকার জাল নোট, একটি ল্যাপটপ, একটি কালার প্রিন্টার, জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ডাইস, বিশেষ রং, সিকিউরিটি থ্রেডযুক্ত কাগজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। সিটিটিসি প্রধান জানান, কয়েক বছর ধরে ওই বাসা ভাড়া নিয়ে তারা জাল টাকা তৈরি করে আসছিলেন। পরে নিজেদের পাশাপাশি সহযোগীদের মাধ্যমে ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার জনবহুল হাট-বাজার ও শপিংমলে এসব জাল টাকা সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার শাহাব উদ্দিন এই চক্রের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির রমনা, তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আগের পাঁচটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় কদমতলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে জাল টাকা প্রস্তুতকারী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিটিটিসির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



