স্থানীয় সংবাদ

ভরা মৌসুমেও ইলিশ নাগালের বাইরে : হতাশ জেলে ও ক্রেতারা

শেখ ফেরেদৗস রহমান: চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম তবে নদী সাগরে মিলছেনা কাঙ্খিত ইলিশের দেখা। এতে করে হতাশ জেলোরা। এমনকি নদী ও সাগরে মাছ না পেয়ে খরচের টাকাও উঠছেনা জেলেদের। এছাড়া সামান্য কিছু মাছ পেলেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের বাইরে। খুচরা বাজার ঘুরে কয়েকটি দোকানে ইলিশের দেখা পেলেও দাম আকাশ ছোঁয়া ৬ থেকে ৭ পিচের ছোট জাটকা ইলিশের কেটি ১ হাজার টাকা থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত কেজি সাইজের মাছের দেখা খুব একটা চোখে পড়েনা আর গুটি কয়েক থাকলেও ২ হাজার ৮শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা প্রতি কেজি। এ দিকে ছোট খুচরা ব্যবসায়িরা বলছেন মাছের আড়তে ইলিশে সরবরাহ খুব কম। এছাড়া কথা হয় জেলে কালাম শিকদারের সাথে তিনি বলেন, ধার দেনা করে গিয়েছিলাম মাছ ধরতে তবে, বৈরী আবহাওয়া আর নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ না থাকায় কিছুই হয়নি। সামান্য যা পেয়েছি আমাদের খরচের টাকা উঠবেনা। এত কম মাছ পাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার জীবনে হয়নি। এর থেকে বাড়ী বসে রিক্সা চালানো ভালো। এবিষয়ে কথা হয় ক্রেতা আশরাফুল রহমানের সাথে তিনি বলেন, এ সময়ে যেসব ইলিশের জাটকা ক্রয় করতাম ৪শ টাকা থেকে ৫শ টাকা এখন দোকানিরা দাম হাকাচ্ছে হাজার টাকার উপরে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে ইলিশ খেতে সবার মন চায়। তবে, এখন এসব ধনীদের মাছ। আমাদের মত নি¤œ-মধ্যবিত্তদের জন্য না। সামনে দাম যদি নাগালে আসে তাহলে ইলিশ ক্রয় করব। এছাড়া খুচরা বিক্রেতা মোঃ ইমরান বলেন, আড়তে ইলিশ মাছ সরবরাহ কম। আর যদিও থাকে দাম অনেক বেশি। বর্তমানে বরিশালের মাছ অধিকাংশ ঢাকা যাচ্ছে। চট্রগ্রামের যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে তা দাম বেশি জাটকার মান ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা ৭ং ঘাটে অবস্থিত সাঈদ ট্রেডিং এর মালিক মোঃ সাঈদুর রহমান বলেন, ইলিশের খুব আকাল পড়েছে। আমার আড়তে গেল প্রায় ১৫ দিন কোন ইলিশের দেখা পায়নি। গতকাল কিছু পাওয়া গেছে। তার দাম বেশি ৮শ গ্রাম, থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের মাছের মণ ৯৫ হাজার টাকা। এর কারণ বৈরী আবহওয়াসহ সাগরে ও নদীর তলদেশে প্রচুর পরিমাণ কারেন্ট জাল আছে। যা জেলেরা ফেলে রেখেছে নষ্ট ছেড়া জাল এসব একটা কারণ। এছাড়া ইলিশের জীবন চক্র কখন মা ইলিশ ডিম দিচ্ছে এর সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে। এর একটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা জেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গির বলেন, সাগরের মোহনায় প্রচুর পলি জমেছে। এছাড়া সাগরে থেকে নদীতে আসার পথ গুলো অনেকটা সংকীর্ণ হচ্ছে এর একটা প্রভাব আছে। আমরা গবেষনা করছি। পাশাপাশি অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়। যদিওবা আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। তবে জনবল সংবট থাকায় অভিযানে সমস্যা হয়। এছাড়া মা ইলিশ সংরক্ষণ উৎপাদনের কাজ চলছে। আমরা চেষ্টা করছি পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button