স্থানীয় সংবাদ

এক যুবক নিহত, আরেকজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা

# খুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই গুলির ঘটনা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগরীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে গুলির ঘটনায় একজন যুবক নিহত এবং আরেকজনকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত লবনচরা ও আড়ংঘাটা থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। পরপর দুটি ঘটনায় নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ উভয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান চালাচ্ছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে লবনচরা থানাধীন মাথাভাঙ্গা এলাকার খুলনা রিভারভিউ পার্কের সামনে। সেখানে প্রকাশ্যে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। আহত আরিফ ওই এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আরিফ খুলনা রিভারভিউ পার্কের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত ছয়জন দুর্বৃত্ত এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে গেলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় আরিফকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তার বুকের ডান পাশে একটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
লবনচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে হামলার কারণ নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পূর্বশত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার বা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আড়ংঘাটা থানাধীন রেলস্টেশনের সামনে থেকে ইমন (২১) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইমন আড়ংঘাটা থানাধীন পাহারপুর এলাকার বাসিন্দা সোবহান শেখের ছেলে। আড়ংঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হালিমুর ইসলাম জানান, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যার পর লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। তবে হত্যার কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইমনের মাথায় একটি গুলির চিহৃ রয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ক্রাইম সিন ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা, আশপাশের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। একই দিনে নগরীর দুই থানার আওতায় সংঘটিত এ দুটি রক্তক্ষয়ী ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পুলিশ বলছে, দুটি ঘটনারই গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button