জাতীয় সংবাদ

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারি দিদারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলা

গ্রেফতার ও কারাবাসের তথ্য গোপন করে ফের অফিসে

প্রবাহ রিপোর্ট : দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা কার্যালয় গোপালগঞ্জের একটি মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নমুনা সংগ্রহকারী মোঃ দিদারুল ইসলাম হাওলাদার। তার বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন করার অপরাধে মামলা হয় এক পর্যায় পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করেন। কিন্তু সেই তথ্য গোপন করে জামিন পেয়ে এখন বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে দাপটের সাথে অফিস করছেন বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, মোঃ দিদারুল ইসলাম হাওলাদার পরিবেশের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে নমুনা সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয় দাখিলকৃত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় এবং জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্য পূর্ণ থাকার অপরাধে উক্ত দপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক আফছার উদ্দিন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (যার মামলা নং-৭, তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২৪)। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা এ মামলার চার্জশীট বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে প্রেরণ করেছেন। যা বিচারাধীন রয়েছে।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া থানার চিতশী গ্রামের বাসিন্দা এস্কেনদার হাওলাদারের পুত্র মোঃ দিদারুল ইসলাম হাওলাদারকে পুলিশ গত ১৮ মার্চ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তিনি প্রায় ১৫/১৬ দিন পর জামিন লাভ করেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আরো জানা যায়, বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জনৈক এক উদ্ধর্তন কর্মকর্তার সাথে দিদারের গভীর সখ্যতা থাকায় নানা অসৎ উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। সুতরাং তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনুসন্ধান পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে সচেতন মহলের দাবি।
সূত্রটি আরো নিশ্চিত করেছে, বরিশাল অঞ্চলে অবৈধ বহু ইটের ভাটা থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছেন কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন ও অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী। এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, মোঃ দিদারুল ইসলাম হাওলাদার ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭৫৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়। মোঃ দিদারুল ইসলাম বিগত ২০১১ সালে বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নমুনা সংগ্রহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেন।
এ বিষয়ে মোঃ দিদারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। এক পর্যায়ে ‘প্যাঁচাল করার সময় নেই’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন জেলা কার্যালয় গোপালগঞ্জ এর উপ-সহকারী পরিচালক আফছার উদ্দিন বলেন, চার্জশীটসহ সব ডকুমেন্ট আদালতে জমা দিয়েছি। তাছাড়া আদালত থেকে আমাকে স্বাক্ষীর জন্য তলব করা হবে। তখন বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি বলেন, মামলার আসামী মোঃ দিদারুল ইসলাম হাওলাদারকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। প্রায় ১৬/১৭ দিন জেল হাজতে ছিলেন। বর্তমান মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সোহেল মাহমুদ বলেন, নমুনা সংগ্রহকারী দিদারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা এবং তার গ্রেফতারের বিষয়টি তিনি পত্রিকায় দেখেছেন। তবে, অফিসিয়ালি অবগতত নন। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করে এ বিষয়ে তিনি পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। যদিও পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button