সম্পাদকীয়

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার

# দিন শুরু হয় বিষ দিয়ে! #

নাগরিকদের জন্য কত রকমের দুঃসংবাদই না তৈরি হচ্ছে। টুথপেস্টের মাধ্যমে নিজের অজান্তে শরীরে ঢুকছে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক। আমরা যেহেতু প্রতিদিন অন্তত একবার দাঁত মাজি এবং সেটা সকালেই, তাই আমাদের দিনটা শুরু হয় শরীরে বিষ প্রবেশ করিয়ে। বলা বাহুল্য, মাইক্রোপ্লাস্টিক বিষ বৈ অন্যকিছু নয়। বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন দেশে তৈরি ও আমদানি করা মিলিয়ে ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে দেখেছে, এগুলোর ২৬টিতেই বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। এমনকি শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্টেও পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও স্নায়ুরোগসহ নানা জটিল রোগের কারণ ঘটাতে পারে। ফুসফুসের প্রদাহ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, অ্যাজমা প্রভৃতি এসব রোগের অন্তর্ভুক্ত। মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করে দেয়। কথা হচ্ছে, জীবননাশী টুথপেস্টগুলো কীভাবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে? একটা খবর হচ্ছে, জরিপ চালিয়ে পাওয়া গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় সবাই নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করে থাকেন এবং তাদের ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ জানতেনই না যে তারা নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক দেহের ভেতর চালান করছেন! টুথপেস্টের কাভারে যদি এর উপাদানগুলোর নাম লেখা থাকত, তাহলে ব্যবহারকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হতো। দ্বিতীয় কথা, টুথপেস্টের উপাদানগুলোর ব্যাপারে কোনো বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্য গবেষণা হয়নি। এবারই প্রথম জানা গেল তথ্যগুলো। অথচ কোনো ব্যাপারে নীতিমালা তৈরি করতে হলে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো জানা অবশ্যক। টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার তথ্যটি উদ্বেগজনক। আমরা আশা করব, বিষয়টিতে বিএসটিআই হস্তক্ষেপ করে এর সুরাহা করবে। বাজারে যেসব টুথপেস্ট বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে যেসবে মাইক্রোপ্লাস্টিক নেই, কেবল সেগুলোর বিক্রির অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। এরপর তৈরি করতে হবে নীতিমালা। বিষয়টি শুধু বিএসটিআই-এর এখতিয়ারভুক্ত নয়, এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেও বিষাক্ত টুথপেস্টের বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button