রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলসহ বন্ধ থাকা পাটকল চালুসহ ১০ দফা দাবি

# পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন #
স্টাফ রিপোর্টারঃ রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল ও বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকল পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ। বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।এতে লিখিত বক্তৃতায় সংগঠনের সদস্য সচিব সুতপা বেদজ্ঞ। সংবাদি;কদে;র প্রশ্নের জবাব দেন আহ্বায়ক অ্যাড. কুদরত-ই-খুদা। সংবাদ সস্মেলনে উল্লেখ করা হয়,, ২০২০ সালে লোকসানের অজুহাতে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ে। অথচ একই সময় দেশের বেসরকারি পাটকলগুলো লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোর লোকসানের জন্য প্রশাসনিক অদক্ষতা, বিজেএমসির দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়াকে দায়ী করেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ দেশের শিল্প খাতের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অতীতে বেসরকারিকরণ করা অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান টেকসইভাবে পরিচালিত হয়নি; বরং এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, ভাতা ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হলে শ্রমিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং করপোরেট পুঁজির আধিপত্য বাড়বে।সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পাটশিল্পের অবনতির পেছনে সরকারের অবহেলা, পরিকল্পনার অভাব ও দুর্নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিগত প্রভাবও দায়ী। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে বন্ধকৃত রাষ্ট্রীয় পাটকল পুনরায় চালু করতে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল, ২৫টি পাটকল দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় চালু, অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ীদের শাস্তি, বিজেএমসির প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার, স্থানীয় ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালীকরণ, পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার সৃষ্টি, ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং বন্ধ পাট ও চিনিকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়, সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে এবং ঘোষিত দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না করলে শ্রমিকরা আবারো রাজপথের আন্দোলনে বাধ্য হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন এস এ রশিদ, মাহবুবুর রহমান খোকন, রফিকুল হক খোকন, জনার্ধন দত্ত নান্টু, বীরমুক্তিযোদ্ধা আ ফ ম মুহসিন, এসকেএম তাছাদুজ্জামান, আফজাল হোসেন রাজু, মাহাবুবুল হক, এড. জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, নুরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম গিয়াস, জাকির হোসেন, শ্যামল, জব্বার, আলমগীর হোসেন, শাজাহান, আঃ করিম, আঃ রাজ্জাক প্রমুখ।



