ইন্টারনেট বন্ধ ও কারফিউতে খুলনায় শিক্ষার্থী ও সুবিধাবঞ্চিতদের আশার আলো হয়ে ওঠে ‘স্বপ্নপূরী’

জুলাই আন্দোলনের দিনগুলি-৩২
এম সাইফুল ইসলাম ঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকারীরা ১ আগস্টকে ‘৩২ জুলাই’ হিসেবে গণনা শুরু করেন। এদিন দেশব্যাপী ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ ও কারফিউর কঠোর বিধিনিষেধে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো খুলনাতেও মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, শিক্ষার্থী ও পথশিশুসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। এমন সংকটময় সময়ে খুলনার সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নপূরী’ মানবিক সহায়তা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। কারফিউ চলাকালে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা গোপনে ও কৌশলে শিক্ষার্থী ও খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেন। পাশাপাশি নগরীর কয়েকটি স্থানে সুবিধাবঞ্চিত, নিম্নবিত্ত ও পথশিশুদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সংগঠনটির এই উদ্যোগ সে সময় অনেক মানুষের কাছে আশার প্রতীক হয়ে ওঠে। স্বপ্নপূরীর সাধারণ সম্পাদক মো. সাগর বলেন, “স্বপ্নপূরী সব সময় দেশের দুর্যোগ ও সংকটকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। সেই ধারাবাহিকতায় কারফিউর সময়ও আমরা এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলাম। পুরো উদ্যোগটি আমাদের সভাপতি এম. সাইফুল ইসলামের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়।” সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ (ইমরান) বলেন, “স্বপ্নপূরীর কয়েকটি খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে আমি নিজেও অংশ নিয়েছি। সে সময়ের পরিস্থিতিতে এটি ছিল অত্যন্ত সাহসী ও মানবিক একটি উদ্যোগ।” এদিকে, ১ আগস্ট (৩২ জুলাই) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে পালিত হয়। বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থী আটকের খবরও পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ১৬ জুলাই সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ২১ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কোটা সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সেই প্রতীকী অবস্থান থেকেই তারা ১ আগস্টকে ‘৩২ জুলাই’ এবং ২ আগস্টকে ‘৩৩ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করা শুরু করেন। ৩২ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, আইনজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেন। আন্দোলনের এই পর্যায়ে একদিকে যেমন প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল, অন্যদিকে সংকটকালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বপ্নপূরীর মতো সামাজিক সংগঠনগুলো মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।


