খুমেক হাসপাতালে বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ

# তদন্ত ও শাস্তির দাবি #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ (কেএমসি) হাসপাতালে ডিপ্লোমা অর্থোপেডিক সার্জারি কোর্সে অধ্যয়নরত এক বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসককে মারধর, সরকারি কাজে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সহকারী অধ্যাপকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুলনা মেডিকেল কলেজ এর কলেজ অধ্যক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. মো. জিল্লুর রহমান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর সালেহ পলাশ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। লিখিত অভিযোগে ডা. জিল্লুর রহমান জানান, তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৩তম বিসিএসের ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা। সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজে ডিপ্লোমা অর্থোপেডিক সার্জারি কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ওএসডি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগদান শেষে প্রেষণে খুলনা মেডিকেল কলেজে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগে ক্লিনিক্যাল কেস প্রেজেন্টেশন চলাকালে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের সঙ্গে রোগীর এক্স-রে নিয়ে আলোচনা করছিলেন তিনি। এ সময় নাক-কান-গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর সালেহ পলাশ, হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী জাহিদুলসহ ২০ থেকে ২৫ জন বহিরাগত কক্ষে প্রবেশ করেন। ডা. জিল্লুর রহমানের দাবি, ডা. পলাশ তার নাম ধরে খুঁজতে থাকেন এবং সামনে গেলে বলেন, “আমার অনুমতি ছাড়া তুই কেএমসিতে ডিপ্লোমা কোর্সে ঢুকলি কেমনে?” এরপর তাকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়। তিনি বের হওয়ার সময় পেছন থেকে তার ডান পায়ে জোরে লাথি মারা হয়। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ের টিবিয়া, ফিবুলা ও সিন্ডেসমোসিস লিগামেন্টে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিষয়টি জানিয়ে আঘাত না করার অনুরোধ করলেও হামলা অব্যাহত থাকে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ডা. ডেভিড নামে অপর এক চিকিৎসক তার মাথায় আঘাত করেন। এরপর উপস্থিত বহিরাগতরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। হামলার সময় অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম হামলাকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করলেও তারা তা উপেক্ষা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান ডা. জিল্লুর রহমান। তার দাবি, বর্তমানে ডান কান ও ডান চোখে শারীরিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবার প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে রয়েছেন। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, একজন বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসকের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু ফৌজদারি অপরাধই নয়, এটি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা, হাসপাতাল থেকে বহিরাগতদের অপসারণ এবং নিরাপদ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, “সরকার প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এই ডিপ্লোমা কোর্স করার সুযোগ মাত্র একবারই দেয়। কোর্সটি সম্পন্ন করতে না পারলে আমি পদোন্নতি পাব না, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও হতে পারব না। এতে আমার পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ ডা. এস এম আকরামুজ্জামান বলেন, “একটি দাপ্তরিক অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর সালেহ পলাশ বলেন, “ডা. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনার জের ধরেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”



