দেশে ফেরাতে পদক্ষেপ নিন

# মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশিরা #
দিন দিন মানব পাচারকারী চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। সাধারণত যাঁরা যেকোনো মূল্যে বিদেশে গিয়ে ভাগ্যের চাকা ফেরাতে চান, দালালরা মূলত তাঁদেরই টার্গেট করে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলিয়ে-ভালিয়ে তাঁদের কবজা করে। একসময় তাঁদের বিক্রি করে দেয় বিদেশি কোনো চক্রের কাছে। মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে দুই শতাধিক বাংলাদেশি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। খবরে যে ভুক্তভোগীর দুর্বিষহ বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, তাঁর নাম আমজাদ হোসেন। ছিলেন ব্যবসায়ী, কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় সংকটে পড়েন। বেড়ে যায় ঋণের বোঝাও। এমন সময় বিদেশে চাকরির আশায় নয়াপল্টনের একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। কথা হয়, লাওসে কম্পিউটার পরিচালনার কাজ দেওয়া হবে। বেতন ভালো, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। সেই এজেন্সিকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন আমজাদ। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়েই তিনি লাওসে যান। কিন্তু লাওসে যাওয়ার পর গোটা চিত্রই পাল্টে যায়। একসময় জানতে পারেন, তাঁকে চাকরির জন্য আনা হয়নি, মূলত তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। যে কাজের কথা বলে লাওসে পাঠানো হয়েছিল তা নয়, সেটির বদলে তাঁকে নারী সেজে নাচানাচি করতে হতো। এরপর আবার তাঁকে মিয়ানমারে বিক্রি করা হয়। এমন নরক থেকে উদ্ধার পাওয়া কয়েকজনের মুখ থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারের স্ক্যাম সেন্টারে দুই শতাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন। শুধু লাওস-মিয়ানমার নয়, সম্প্রতি কম্বোডিয়ায় গিয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রতারিত হয়েছেন। এদিকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক আল-আমিন নয়ন কালের কণ্ঠকে বলেন, মিয়ানমারের স্ক্যাম কম্পাউন্ড এলাকা থেকে সরাসরি বাংলাদেশে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে আগের মতো থাইল্যান্ড হয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনসুলেটের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের বাস্তবতা হলো, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেই তুলনায় দেশে কর্মসংস্থান নেই। সংগত কারণে জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বিদেশে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকে। তাদের বিদেশযাত্রা নিরাপদ করা একান্ত অপরিহার্য। বিদেশে গিয়ে যেন সঠিক প্রতিষ্ঠানে কাজ পায়, তা দেখভাল করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। মিয়ানমারে যেসব বাংলাদেশি প্রতারিত হয়ে বন্দি আছেন, তাঁদের দেশে ফেরাতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
