প্রবাহ ভবনের পূর্ব পাশে আনিস-টিটোর বস্তি মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসীদের আঁখড়া
দৈনিক প্রবাহ অফিসে ঢুকে সন্ত্রাসী হামলা

মামলার প্রধান আসামি রফিকুল গ্রেফতার, অন্যরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে
হামলাকারীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ আজ
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর শিববাড়ী মোড়ের অদূরে টাইগার গার্টেন হোটেল সংলগ্ন দৈনিক প্রবাহ অফিসের পূর্ব পাশের (পিছনে) আনিস ইজারাদার ও টিটোর বস্তি মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসীদের আঁখড়া। এ বস্তি ঘিরে গড়ে উঠেছে অপরাধীদের বিশাল আস্তানা ও সিন্ডিকেট। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে চলে মাদক কেনা-বেচা। এছাড়া নগরীর বৈদ্যুতিক তার ও মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরণের চোরাকারবারীও চলে এ দুটি বস্তিকে ঘিরে। ফলে দাবি উঠেছে- দ্রুত এসব বস্তি উচ্ছেদের।
এদিকে, খুলনা নগরীতে মধ্যরাতে দৈনিক প্রবাহ অফিসে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আনিস ইজারাদারের বস্তি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। তবে, মামলার অপর আসামি সেজান ও আপন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে আপন হত্যা মামলার আসামি বলে সূত্র জানিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই আমজাদ হোসেন।
অপরদিকে, দৈনিক প্রবাহ অফিসে হামলাকারী অন্য আসামিদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর শিববাড়ী মোড়ের অদূরে টাইগার গার্টেন হোটেল সংলগ্ন প্রবাহ ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দৈনিক প্রবাহ পাঠক ফোরামের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
প্রবাহ অফিসে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, রোববার দিনগত রাত অনুমান ১টা ৫০ মিনিটে প্রবাহ অফিসে কর্মরত অফিসের পেস্টার ফয়সাল আহমেদ (৪৯) সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন ৩ কেডিএ এভিনিউস্থ দৈনিক প্রবাহ ভবনের ৫ম তলার অফিসের মধ্যে অফিসিয়াল কাজ করা সময় ওয়াশরুম যায় এবং ওয়াশরুমের জানালা দিয়ে বাইরের নিচের দিকে ৬/৭ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরকে দেখতে পায়। নিচের দিকে তাকানোকে কেন্দ্র করিয়া অজ্ঞাতনামা আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাহাকে লক্ষ্য করিয়া ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে রাত ০২টা ৩০ মিনিটের মধ্য উক্ত এজাহারনামীয় ১নং ও ২নং আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ১ জন আসামী জোরপূর্বক প্রবাহ ভবনের নিচে তলায় অনুপ্রবেশ করে। প্রবেশের পর আসামীরা উক্ত ভবনের ৫ম তলায় যাওয়ার চেষ্টা করিলে আসামীদেরকে উক্ত ভবনে দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি গার্ড মোঃ মুসলিম বাধা প্রদান করে। কিন্তু আসামিরা তাকে ধাক্কা দিয়া জোরপূর্বক ভবনের ৫ম তলায় অবস্থিত পত্রিকা অফিসে অনধিকার প্রবেশ করিয়া জোরপূর্বক অফিসের কাছের দরজার ভাঙার চেষ্টা করে। এসময় উক্ত আসামীরা অফিসে কর্মরত সাংবাদিকদের খোঁজখবর করিতে থাকে। সেখানে উপস্থিত থাকা পত্রিকা অফিসের পেস্টার ফয়সাল আহমেদকে আসামীরা এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারিয়া মাথা, মুখ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর থেতলো ও নীলাফোলা জখমপ্রাপ্ত করে। এসময় তার চিৎকারে আসামীরা তাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অফিসের পেস্টার ফয়সাল আহমেদকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়াও উক্ত ঘটনার সময় প্রবাহ ভবনের নিচে তলার গেটের সামনে আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামীরা ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে পরস্পর যোগসাজসে উক্ত এজাহারনামীয় আসামীদেরকে ঘটনাটি সংঘটিত করিতে সহায়তা করে



