জাতীয় সংবাদ

ইরানের ভয়ে খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠেছিলেন ট্রাম্প

প্রবাহ ডেস্ক : গত জুলাই মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বনেতাদের সেই আসর শেষ করে ট্রাম্প যখন দেশে ফিরছিলেন, তখন নেপথ্যে ঘটে যায় এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা। ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি এড়াতে আঙ্কারা থেকে অত্যন্ত নাটকীয় উপায়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ট্রাম্পকে, যেখানে ক্যামেরার আড়ালে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং (খাবারের) ট্রাকে লুকিয়ে তাকে অন্য একটি ছোট সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পারে যে, আঙ্কারার আকাশে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ইরান। এই চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রক্ষায় এক নজিরবিহীন ও অবিশ্বাস্য ছদ্মবেশের আশ্রয় নেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত ৮ জুলাই স্থানীয় সময় রাত ৮:২৪ মিনিটে আঙ্কারা বিমানবন্দরে উপস্থিত টেলিভিশন ক্যামেরা এবং সাংবাদিকদের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে উঠতে দেখা যায়।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট তার চিরচেনা এয়ারফোর্স ওয়ানে করেই ভ্রমণ করছেন। কিন্তু এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানের ভেতরের পরিবেশ বদলে যায়।
ক্যামেরার দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা বিমানের উল্টো দিকের একটি দরজা দিয়ে ট্রাম্প এবং তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাকে অত্যন্ত গোপনে বের করে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বিমানবন্দর ক্যাটারিং সার্ভিসের একটি খাবার বহনের বিশেষ ট্রাক। ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের সেই ট্রাকে তুলে নিয়ে বিমানবন্দরের অন্য প্রান্তে থাকা একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে স্থানান্তরিত করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অন্য বিমানে পার করে দেওয়ার পর পুরোনো ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ বিমানটি একটি ‘ডিকয়’ বা ‘নকল লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করে। বিমানে থাকা সাংবাদিক ও কিছু হোয়াইট হাউস স্টাফও জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট তাদের সাথে নেই। একই সময়ে ট্রাম্পকে বহনকারী ছোট সামরিক বিমানটি সম্পূর্ণ গোপনে রুট পরিবর্তন করে যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
অন্যদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়নের পর পরই বিমানের ভেতরের সাংবাদিকদের সব জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্র বা অত্যন্ত বিপজ্জনক সংঘাতপূর্ণ এলাকা পার হওয়ার সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রোটোকল মেনে চলে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সি-৩২এ বিমানটি রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যের আরএএফ মিলডেনহল সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছায়। এর কয়েক মিনিট পরেই পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ও গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে এসে পৌঁছান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প মূলত কাতার রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন ও বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু ফেরার সময় হঠাৎ পুরোনো বিমান ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যদিও এই ঘটনার পেছনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে’ তিনি এটি করছেন।
তবে গোয়েন্দা সূত্র বলছে, কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটিতে এখনো মার্কিন এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা যুক্ত করা সম্ভব হয়নি, যার কারণে ইরানের হুমকির মুখে সেটি ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
এদিকে তৃতীয় একটি বিমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং নতুন বিমানের নিরাপত্তার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক বিমান এবং এতে উচ্চমানের নিরাপত্তা প্রোটোকল রয়েছে।’
খাবারের ট্রাকে ট্রাম্পের লুকিয়ে থাকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত না করে তিনি যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন যে আমেরিকার অনেক শত্রু তার ওপর নজর রাখছে, আর সেই হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের সর্বোচ্চ কৌশল আমরা ব্যবহার করছি।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, এনডিটিভি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button