এমপির গলায় অস্ত্র ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে মামলা

প্রবাহ রিপোর্ট : সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ঘটনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়ে আলোচনা চলে আসছে। তবে, সাম্প্রতিক একটি মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে জেলাজুড়ে। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী অসুস্থ থাকা অবস্থায় তার গলায় ‘রামদা’ ধরে ভয় দেখিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এমপি নাছির চৌধুরীর সৎ তিন ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তার স্ত্রী পারভিন আক্তার।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিরাই আমলি আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। বাদীর আইনজীবী কাওসার আলম জানান, ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম মামলাটি আমলে নিয়েছেন। তিনি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মাসুক চৌধুরী। তিনি এমপির নাছির চৌধুরীর ছোট সৎ ভাই এবং দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্য আসামিরা হলেন— নাছির চৌধুরীর অপর দুই সৎভাই মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, মাটারগাঁও গ্রামের আমিরুল ইসলাম, পুরনো কার্নাগাঁও গ্রামের সয়ফুল চৌধুরী, তাল বাউসি গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মোহরার মমতাজ বেগম, কোলিয়ার কাপনের তাজুল ইসলাম।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অসুস্থ নাছির চৌধুরীর গলায় ‘রামদা’ ধরে ভয় দেখিয়ে তার বাড়িসহ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে। নাছির চৌধুরীর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আসামিরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আসছিলেন। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার সাজিয়ে অসুস্থ ও অক্ষম নাছির চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়। নাছির চৌধুরী দলিলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তার গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নাছির চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে বাদী পারভিন আক্তার মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাছির চৌধুরীর ছোট ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী) বলেন, “এটি আমাদের পারিবারিক বিষয়। মামলার বিষয়ে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আইনগতভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়া হবে।”


