স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় গুলির ঘটনার রহস্য উদঘাটন ৩ বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৪

# ৮ রাউন্ড গুলি, ৬ ম্যাগাজিন ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় প্রকাশ্যে গুলি করে মো. মাসুদ শেখ (৪৫)কে আহত করার ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, আট রাউন্ড তাজা গুলি, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, রামদাসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় খান কুব্বাত আলী (৬০) নামে একজনকে সরাসরি জড়িত আসামি হিসেবে এবং আরও তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা সদর থানা পুলিশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে খুলনা সদর থানাধীন টুটপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা মো. মাসুদ শেখকে গুলি করে। গুলির ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই দিন বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে খুলনা সদর থানাধীন দারোগাপাড়া মহিউদ্দিন লেন এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে গুলির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে *খান কুব্বাত আলী (৬০)*কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে মোছা. সামছুন নাহার (৫০), কেএম আবির হাসান (২৪) ও রফিকুল ইসলাম টুকু (৬১)কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত খান কুব্বাত আলীর হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়, বিভিন্ন মডেলের ৩টি বিদেশি পিস্তল, বিভিন্ন মডেলের ৬টি ম্যাগাজিন, রাউন্ড তাজা গুলি, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি চাপাতি, ১টি লোহার তৈরি রামদা, ১টি ইলেকট্রিক শক স্টান গান, ১টি কাঠের বাটযুক্ত ছোরা এবং ১টি পিতলের তৈরি রড। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রের ঘটনায় খুলনা সদর থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গুলির ঘটনার পরপরই পুলিশ তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অস্ত্রসহ অভিযুক্ত ও সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা থানার সহকারী কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম এবং ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button