ফুরিয়ে আসছে ভূগর্ভস্থ পানি

# এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিন #
দিন দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নামছে। তথ্য বলছে, ২০০১ সালে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৯.৬ মিটার নিচে; ২০২৪ সালে তা নেমে দাঁড়ায় ১০৬ মিটারে। চলতি বছর তা ঠেকেছে ১১২ মিটারে। সংশ্লিষ্টজনরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর গড়ে দু-তিন মিটার করে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূরভবিষ্যতে পানির সংকট ভয়াবহ হবে। রাজধানীর পানির স্তর যে হারে নিচে নামছে, সেই তুলনায় ভূগর্ভে পানির পুনর্ভরণ বা রিচার্জ হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন ভূগর্ভস্থ পানির মজুদ কমে আসছে। এদিকে রাজধানীতে চাহিদার ৭০ শতাংশই আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে, আর বাকি মাত্র ৩০ শতাংশ আসে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে। জানা গেছে, দৈনিক পানির চাহিদা ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসার দাবি, তাদের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩২০ কোটি লিটার। এই হিসাবে পানির সংকট থাকার কথা নয়, কিন্তু বাস্তবতা হলো, শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানির জন্য হাহাকার দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট এবং অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে এই সংকট এখন বিপর্যয়ের রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই এই সংকটের মূল কারণ। তবে ঢাকা ওয়াসা বলছে, তারা ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে পানির উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার মোট পানি উৎপাদনের ৮০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ-৩ ও পদ্মা পানি শোধনাগার ফেজ-২ চালুর কাজ চলছে। এ ছাড়া রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার চালু হলে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ভূগর্ভস্থ পানি গবেষক ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাবেক পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ বলেন ‘পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নীতিমালা ও পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াটার অ্যাক্টেও এ বিষয়ে নির্দেশনা আছে। কিন্তু এসব নীতিমালা ও পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’ আমরা মনে করি, পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা দরকার। একই সঙ্গে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।
