স্থানীয় সংবাদ

সুন্দরবনে ৪০ ক্যামেরায় ধরা পড়ছেনা সেই বাঘিনী : তার আবাসস্থলে এখন অন্য তিন বাঘিনীর বসবাস

আবু হানিফ, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ সুন্দরবনে শিকারীর ফাদে আটকা পড়ে আহত হবার পর ৬ মাস চিকিৎসা শেষে অবমুক্তির একমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি সেই বাঘিনীর। গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটিতেও ধরা পড়েনি তার অস্তিত্ব। সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকার গহীণ ওই বনে বসানে ট্র্যাপিং ক্যামেরায় ধরা পড়ছে ভিন্ন তিনটি বাঘিনীর চলাচলের দৃশ্য। সুন্দরবনের আন্দারমানিক এলাকায় তার আবাসবস্থলে অবমুক্ত করা প্রাপ্তবয়স্ক সেই বাঘিনীটি কি বেঁচে আছে ? না কি ফের শিকারিদের পাতা ফাঁদে পড়ে মৃত্যু হয়েছে, এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে। তবে, সুন্দরবন বিভাগে বলছে, সম্পূর্ন সুস্থ অবস্থায় বাঘিনীকে তার আবাসস্থল সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকার গহীণ অরণ্যে গত ১২ জুলাই অবমুক্ত করা হয়। ওই বাঘিনীটির আবাসস্থলে অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস শুরু করায় সে হয়তো অন্য এলাকায় চলে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ আগামী সপ্তাহে আবারো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরা মনিটর করবে। বাঘিনীটিকে গহীন বনে অবমুক্ত করার পর থেকে আন্দারমানিক এলাকাজুড়ে বন বিভাগের নিবিড় নচরদারিতে রয়েছে, এই অবস্থায় বাঘিনীটি মারা যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনে হরিণ শিকারিদের পাতা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়েছিল বাঘিনীটি। ফাঁদে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় তার সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ক্ষতস্থানে পচনও ধরেছিল। পরে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করে বাঘিনীটি নিয়ে যাওয়া হয় খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সেখানে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের ছয় মাসের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে ওঠে বাঘিনী। এরপর গত ১২ জুলাই উদ্ধার হওয়া স্থানের কাছে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র সংলগ্ন বনাঞ্চলে তাকে অবমুক্ত করা হয়। অবমুক্তির পরে পর্যবেক্ষণে ১৫০ মিটার পর্যন্ত তার পায়ের ছাপ দেখা গেছে, এমনটাই জানিয়েছে বন বিভাগ।
তবে অবমুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে দেখা যায়, খাঁচা থেকে বের হয়ে বনে লাফিয়ে পড়ে বাঘিনীটি ডানে-বাঁয়ে হেলে পড়ছিল। এমনকি শক্তভাবে দাঁড়াতেও কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল তার। বার বার ফিরে তাকাচ্ছিল পেছনের দিকে। কিন্তু অবমুক্তির এক মাস পরও কোনো একটি ক্যামেরাতেও সেই বাঘিনীরি ছবি না পাওয়ায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উদ্ধারের পর দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে থাকায় পুনরায় বন্য পরিবেশে ফিরে সে কতটা স্বাভাবিকভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছে, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাগিনীটি অবমুক্তির পর বন বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণে বনের দেড়শ মিটার পথে তার পায়ের ছাপ দেখা যায়। চেতনানাষক দিয়ে অচেত করার পর অবমুক্তর সময়ে কিছুটা দূর্বল থাকলেও পরে বাঘিনীটির স্পষ্ট পায়ের ছাপ দেখে তার অবস্থা স্বাভাবিকই ছিল। বাঘিনীটি ছাড়ার আগে বনের আন্ধারমানিক এলাকার ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি সয়ংক্রিয় ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়। পরবর্তীতে শ্যালনদীর পূর্বপার এবং জয়মনি এলাকায় বসানো হয়েছে আরো ২০টি ক্যামেরা। বন বিভাগ নিয়মিতভাবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এসব ক্যামেরায় এখন পর্যন্ত তিনটি বাঘিনীর কোন ছবি ধরা পড়েছে। এসব ছবি পর্যালোচনা করে অবমুক্ত বাঘিনীর ছবি পাওয়া যায়নি। তবে ক্যামেরায় সেই বাঘিনীর ছবি না পাওয়া গেলেও এর অর্থ এই নয় যে, সে মারা গেছে। ওই বাঘিনীটির আবাসস্থলে অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস শুরু করায় সে হয়তো অন্য এলাকায় চলে গেছে। একটি বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় বিচরণ করে থাকে। হয়তো সে তার বিচরণ এলাকা পরিবের্তন করেছে। অন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় ক্যামেরার আওতায় নেই। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ আগামী সপ্তাহে আবারো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরা মনিটর করবে। আন্দারমানিক এলাকাজুড়ে বন বিভাগের নিবিড় নচরদারিতে রয়েছে, এই অবস্থায় বাঘিনীটি মারা যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও।

এক নম্বর ছবি- অবমুক্ত করা বাঘিনী

দুই নম্বর ছবি- অবমুক্ত এলাকায় নতুন দুই বাঘিনী

তিন নম্বর ছবি- অবমুক্ত এলাকায় নতুন আরো এক বাঘিনী

চার নম্বর ছবি- অবমুক্ত এলাকায় বসানে ট্র্যাপিং ক্যামেরায় ছবি দেখছে বন বিভাগের কর্মকর্তারা

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button