জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে অতীতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে : এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল

# খুলনা অঞ্চল জামায়াতের সমাজকল্যাণ বিভাগীয় দায়িত্বশীল সমাবেশ #
খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে- এমন আশা মানুষ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেই সরকার অস্বস্তিবোধ করে। দেশে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ভয়ভীতি, মামলা-হামলা বা কারাবাসের হুমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন না করলে অতীতের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যারা দেশের জন্য ফাঁসিকেও তুচ্ছ মনে করে, তারা সব সময় প্রস্তুত। তালা যেমন পরিবর্তন হয়, চাবিও পরিবর্তন হয়, এটা মাথায় রাখতে হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে নগরীর আল-ফারুক সোসাইটি মিলনায়তন খুলনা অঞ্চল জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সমাজ কল্যাণ বিভাগীয় দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খুলনা অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মহানগরী নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মুসা, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, খুলনা মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, খুলনা জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও মাওলানা কবিরুল ইসলাম, খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, সাতক্ষীরা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা সহকারী সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, খুলনা জেলা সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম ও এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা মহানগরী অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, খুলনা মহানহগরী সমাজ কল্যাণ সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাগেরহাট জেলা সমাজ কল্যাণ বিভাগীয় সেক্রেটারি তাজাম্মুল হোসেন প্রমুখ।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, মহাগ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূল (সা.)-এর জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ” ফলে একমাত্র রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ও কর্মপন্থা অনুসরণের মাধ্যমেই দুর্নীতি মুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তাঁর কর্মপন্থা অনুসরণের মধ্যেই মানবতার কল্যাণ নিহিত রয়েছে। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি ঐশী বাণী পেয়ে জাহেলিয়াতের আঁধার কেটে সুন্দর একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে তিনি মানব গঠনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। যার ফলে আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রা.) এর মতো মানুষেরা তৈরি হয়েছিলেন। রাসূল (সা.) তাদের মতো একদল যোগ্য লোক তৈরি করে সোনার মদিনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যারা বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ্য হয়েছিলেন। আমরাও একইভাবে সেই কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখি। এদেশের মানুষের মাঝে কুরআনের শিক্ষা ও রাসূলের সুন্নাহ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য যোগ্য ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ তৈরির কাজ আমরা করে যাচ্ছি। রাসূল (সা.)-এর চেতনাকে আঁকড়ে ধরেই আমাদের দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা সম্ভব। আল্লাহর দ্বীন এই জমিনে বিজয়ী হলে দেশের প্রতিটি নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে ইনশাআল্লাহ। কাজেই রাসূল (সা.) এর আদর্শের আলোকেই আমাদের জীবনকে গড়ে তুলতে হবে।



