শিশু জান্নাতুল ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

নড়াইল প্রতিনিধি ঃ নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি প্রতিবেশি রবিউল সিকদার রবির (৩৭) মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে এ আদেশ দেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম। মাত্র আট কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ-প্রাপ্ত রবিউল সিকদার রবি রামচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার সিকদারের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি তিনি। জান্নাতুল দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এদিকে, রবিউল সিকদার রবির মৃত্যুদন্ডের রায় শুনে আদালতে উপস্থিত শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা মফিজুর রহমান ও মা লাবনী খানম সন্তোষ প্রকাশ করে ফাঁসির আদেশ দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। গত ৪ আগস্ট মাত্র ১১ কার্যদিবসে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক অজয় কুমার কুন্ডু। মৃত্যুদন্ডের আদেশে বাদিপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকেলে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রতিবেশি ও ফুফাতো ভাই রবিউল সিকদারের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর রবি পালিয়ে গেলেও পরেরদিন সকাল ৯টার দিকে দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ২১ জুলাই জান্নাতুল মাওয়ার বাবা রামচন্দ্রপুর গ্রামের মফিজুর রহমান বাদী হয়ে রবিউল সিকদার রবিকে আসামি করে সদর থানায় মামলার দায়ের করেন। মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদীসহ মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় আসামি রবিউলকে মৃত্যুদ- ও তিন লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি রবি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান লিটু বলেন, মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে আসামি রবিউল সিকদার রবিকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ মামলায় আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। এ রায়ের মধ্য দিয়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি বলে মনে করছি। একই সাথে এ রায় অপরাধীদের জন্য একটি কঠোর বার্তাও বহন করবে।



