রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু : বেতনসহ যেসব সুবিধা পাবেন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে শপথ নেবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিশেষ ক্ষমতা ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবেন তিনি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতিকে অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন, বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পান একজন রাষ্ট্রপতি। রয়েছে বিশেষ কিছু ক্ষমতা। তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার নির্বাহী ক্ষমতা সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কারো কোনো পরামর্শ ছাড়াই স্বাধীনভাবে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে এর বাইরে প্রায় সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো সাজা মওকুফ বা কমানোর ক্ষমতা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আদালত বা অন্য যেকোনো কর্তৃপক্ষের যেকোনো সাজা স্থগিত, কমানো বা পুরোপুরি মওকুফ করতে পারেন। তবে অন্যান্য দায়িত্বের মতো রাষ্ট্রপতির এ ক্ষমতার প্রয়োগ সরকারের পরামর্শের ওপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রপতির আরেকটি সাংবিধানিক ক্ষমতা হলো দায়মুক্তি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না। তবে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যায়। আবার শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণেও পদ থেকে সরানো যায়। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় সংসদে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে। শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কিংবা অবসরে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা নেই। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ থাকতে পারেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয়। আগে কখনো অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হলে তিনি আর রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। জাতীয় সংসদের সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করেন। রাষ্ট্রপতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আয়করমুক্ত বেতন পাবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকলে তিনি আর কোনো সরকারি সুবিধা পান না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি অবসর বা পদত্যাগের পরও কিছু সরকারি সুবিধা পান। অতিথি আপ্যায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির বার্ষিক ভাতা রয়েছে। এই ব্যয়ের কোনো অডিট হয় না। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধাও সরকার দিয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতি সরকারি কাজে বিদেশ সফরে তার ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি নির্ধারিত হারে ভাতা পান তিনি। এ ছাড়া বছরে ২ কোটির টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল আছে রাষ্ট্রপতির। রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসা নিলেও সেই ব্যয় সরকার বহন করে।


