সম্পাদকীয়

বেপরোয়া চাঁদাবাজি রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই

সমাজে অন্যতম সমস্যা চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাদের দাপট। নানা সময় প্রকাশিত খবরে দেখা গেছে, এসব অপতৎপরতার পেছনে জড়িত রয়েছে দেশি-বিদেশি চক্র। নিরাপত্তা বাহিনী গুটিকতক চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি আটক করলেও মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেক সময় আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে এসে আবার একই কাজে লিপ্ত হয়। এসব কারণে দেশে চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এমন উদ্বেগের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেনÑঅপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকার খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। জানা গেছে, ৬ আগস্ট হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে তাঁর কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি করা হয়। ১৪ আগস্টের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না দেওয়ায় ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ভাবা যায়, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ! চাঁদাবাজরা এখন নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিচ্ছে। এমনকি সময়মতো টাকা না দিলে নেমে আসছে সহিংস হামলাও। অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সারা দেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শুধু চাঁদাবাজ নয়, এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাতজনের অপরাধীচক্রটির চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। বিশেষ করে মব সন্ত্রাস এক ধরনের স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠেছিল। সেই সময় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মবকে ‘প্রেসার গ্রুপ’ বলে মববাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন। কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের কারণে সমাজ ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। এদিক থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে এসেছে। জনমনেও স্বস্তি ফিরেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি করতে হবে। মাদক বিস্তার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক প্রবেশ করছে। নিরাপত্তা বাহিনী যে পরিমাণ মাদক জব্দ করছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মাদক দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। মাদকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের কৃত্রিম মাদক, যেগুলো মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজধানী ঢাকায়ও ভয়ংকর মাদক তৈরির ল্যাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ডেকে ডেকে মাদক বিক্রি চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইনে মাদকের রমরমা কারবার চলছে। আমরা মনে করি, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার নির্মূলে আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্রের নেটওয়ার্ক ছিন্ন করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। একজন অপরাধীও যেন রাজনৈতিক আনুকূল্য না পায়, তার জন্য ক্ষমতাসীন দলের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থানও একান্ত অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button