নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবসে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ঃ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ (ইয়াসমিন হত্যা) দিবস উপলক্ষে ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সোমবার বিকাল ৫টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে নারী নির্যাতন বন্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা, সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবিতে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা শাখার সভাপতি কোহিনুর আক্তার কনা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ খুলনা জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল করিম, প্রগতিশীল আইনজীবী ফ্রন্ট খুলনা জেলা সংগঠক অ্যাড. সনজিত মন্ডল, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা কমিটির সদস্য সঙ্গীতা মন্ডল, খাদিজা আক্তার, রানী খাতুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৫ সালের ২৪ই আগস্ট গৃহকর্মী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে ভুল গাড়িতে উঠে ভুল জায়গায় নেমে পড়ে। পরবর্তীতে একটি পুলিশের গাড়ি সেখানে আসে এবং ইয়াসমিনকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে টহল গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। পরে সেই পুলিশরা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ এবং হত্যা করে লাশ গোবিন্দপুরে ফেলে চলে যায়। এর প্রতিবাদে দিনাজপুরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পরিপ্রেক্ষিতে বিশাল জনতার অভ্যুত্থান ঘটে, পুলিশের গুলিতে ৭ জন মানুষ প্রাণ দেয়। জনতার প্রতিরোধের মুখে এই ঘটনার বিচার হয় ও ২০০৪ সালে তিন জন পুলিশকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আজও আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন চলছে এবং কোনো বিচার হচ্ছে না। ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসে নারী নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ১০৪২টি, আর ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬২১টি। ২০১৫ সালে তনু ধর্ষণ ও হত্যার আজ ও বিচার হয়নি। বরং এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে নুসরাত, আছিয়া, রামিসাসহ আরও অজস্র নাম। বক্তারা ইয়াসমিন হত্যা দিবসে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে নারী নির্যাতন বন্ধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। একই সাথে তারা নারীর অবাধে চলাচলের উপর মৌলবাদী আগ্রাসন রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান এবং নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেন। বক্তারা একই সাথে নারীদের প্রতি সমমর্যাদার দৃষ্টিভঙ্গি, নারীদের সম্পত্তিতে সমান অধিকার ও সমকাজে সমমজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তারা আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর জেলায় ঘটে যাওয়া গণপতি চক্রবর্ত্তী ও তার পরিবারকে নৃশংস কায়দায় নিজ বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয়। এটা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির পরিচায়ক। বক্তারা অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।



