স্থানীয় সংবাদ

কয়রা সদরে নেই কোন হাসপাতাল : দেড় লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত

# অবহেলিত একটি জনপদের নাম কয়রা- (২) #

রিয়াছাদ আলী, কয়রা (খুলনা) ঃ উপকুলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলা সদরে একটি সরকারি হাসপাতাল না থাকায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এ জনপদের মানুষ অসুস্থ হলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে জায়গীর মহল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কয়রা বাসির প্রানের দাবি কয়রা সদরে ১ টি হাসপাতাল নির্মান করা হলে এ এলাকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে ভালভাবে জীবন যাপন করতে পারবে। এলাকাবাসি জানায়, কয়রা সদরে কোন সরকারি হাসপাতাল না থাকায় উপজেলা পরিষদের সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারি সহ সাধারন মানুষ অসুস্থ হলে জায়গীর মহল হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। বিশেষ করে উপজেলার সর্ব দক্ষিনের জনপদ উত্তর ও দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের মানুষদের কাছে চিকিৎসা সেবা শুধু স্বপ্ন। ঐ দুটি ইউনিয়ন থেকে কয়রা হাসপাতালে দুরুত্ব প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় অনেক অসুস্থ মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়তে হয়েছে। কয়রার কপোতাক্ষ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবম আব্দুল মালেক বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল খুবই জরুরী। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিন বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর, মহারাজপুর ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত কয়রা সদর। আর এই প্রাণ কেন্দ্রে একটি হাসপাতাল নির্মানের দাবি দীর্ঘদিনের। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মতিয়ার রহমান বলেন,জনবান্ধব এই সরকারের কাছে কয়রা বাসির প্রানের দাবি অবিলম্বে কয়রা সদরে একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মান করা হোক। দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি খোকন বলেন, তার এলাকার সাধারন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে খুলনা যেয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। জায়গীর মহল হাসপাতালে যাওয়া জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় লঞ্চযোগে খুলনায় যেতে হয়। গরীব অসহায় মানুষের জন্য সেটি হয়ে ওঠে খুবই কষ্টসাধ্য। তাই তিনি অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মান জরুরী বলে মন্তব্য করেন। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়রা সদরে কোন হাসপাতাল না থাকায় উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়লে দুরের কোন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সমস্যার কারনে কয়রাতে অনেকেই চাকুরী করতে আসতে চায়না। কয়রা পাইকগাছার সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্যোগে ঝুকিপুর্ন এলাকা কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল প্রয়োজন। তিনি কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে। ইতিপুর্বে কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শওকত আলী বলেন, খুলনার সবচেয়ে দুরের উপজেলা কয়রা। উপজেলা সদরে কোন সরকারি হাসপাতাল না থাকাটা খুবই দুঃখ জনক। তিনি আরও বলেন, কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মান করার ব্যাপারে কোন প্রস্তাবনা আছে কিনা তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে তিনি উধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন। কয়রা বাসীর প্রানের দাবি যাতে করে কয়রা সদরে একটি হাসপাতাল নির্মান করা যায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button