জাতীয় সংবাদ

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ৫ শতাধিক : নিখোঁজ ১৫শ’

# কেয়ামতের মহা প্রলয় কেমন হতে পারে বুঝলো প্রত্যক্ষদর্শীরা #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ নেপাল এবং চীনের তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ শতাধিক। গত ২৬শে আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) সকালে শুরু হওয়া এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগে এখনো ১৫শ’ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের সার্বিক পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো ঃ হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিহত ঃ নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ শতাধিক। এ ছাড়া তিব্বত অংশে আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিখোঁজ : নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে প্রায় ১৫শ’ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেই নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন। শুধুমাত্র একটি গাছের ডাল ধরে ভেসে আসা একজন পাকিস্তানী নাগরিক স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “কেয়ামতের মহাপ্রলয় কেমন হতে পারে তা এখানকার দৃশ্য না দেখলে কেউ বুঝবে না। এটা ১ মিনিট সময় দেয়নি কাউকে। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ভূমিকম্প পরে ভাবলাম সুনামী, এখন জানলাম আকস্মিক বন্যা।”
বিদেশি পর্যটক ঃ নিখোঁজদের মধ্যে ৭০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। যার মধ্যে ভারতের ২৮৮ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া নেপালি সেনা ও পুলিশ সদস্যরাও নিখোঁজদের তালিকায় আছেন। বন্যার কারণ ও প্রভাবমূল কারণ: ইউএসজিএস (টঝএঝ)-এর তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহ ধসে (এষধপরধষ ঈড়ষষধঢ়ংব) কাদা, পাথর ও বরফের বিশাল স্রোত তৈরি হয়, যা এই বিধ্বংসী ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সৃষ্টি করে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঃ নেপালের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের রাসুয়া এবং নুওয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ল-ভ- হয়েছে। অবকাঠামোগত ক্ষতি ঃ বন্যার তোড়ে পুরো গ্রাম ভেসে গেছে, ১৯টি বড় সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চলমান উদ্ধার অভিযান ও নতুন বিপর্যয় শঙ্কানেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী কুকুর নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ভূমিধসের ফলে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে একটি অস্থায়ী হ্রদ (জরংরহম খধশব) তৈরি হয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে পুনরায় আরও বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা আঘাত হানতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button