জাতীয় সংবাদ

সিন্ধুর পানি নিয়ে হেগে ধাক্কা খেল ভারত : জয় পাকিস্তানের

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ হেগের সালিশি আদালত রায় দিয়েছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করতে পারে না। ছয় দশকের পুরোনো পানি বণ্টন চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে এবং এর আওতায় ভারতকে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে সর্বসম্মত রায়ে জানিয়েছেন পাঁচ সদস্যের আদালত। সোমবার দেওয়া রায়ে আদালত ভারতের পক্ষ থেকে চুক্তি স্থগিত রাখার পক্ষে দেওয়া সব যুক্তিই নাকচ করেছেন। এর মধ্যে ভারতের সার্বভৌমত্ব, পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা না করার অভিযোগ, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ও ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতশাসিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারত চুক্তিটি ‘স্থগিত’ রাখার ঘোষণা দেয়। ওই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। ভারত অভিযোগ করে, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন না দেওয়া পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত থাকবে। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তান ২০২৬ সালের মার্চে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালতে (পিসিএ) বিষয়টি তোলে। ভারত আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করেনি এবং পুরো শুনানিতে অংশ নেয়নি। ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল হেগের পিস প্যালেসে শুনানি হয়, যেখানে কেবল পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার একে পাকিস্তানের জন্য ‘আইনি ও কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ভারতকে চুক্তির অধীনে তার সব বাধ্যবাধকতা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। তবে ভারত দ্রুতই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালতটিকে ‘অবৈধভাবে গঠিত’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, পাকিস্তান সীমান্তপারের হামলায় সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রায়টি পাকিস্তানের অবস্থানকে শক্তিশালী করলেও ভারতকে তা মানতে বাধ্য করার সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেই। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আদেশের মতো এই রায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ ব্যবস্থা নেই। সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় দুই দেশের যৌথ সংস্থা ‘পার্মানেন্ট ইন্ডাস কমিশন’ নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে ২০২২ সালের মে মাসের পর কমিশনের কোনো বৈঠক হয়নি। পাকিস্তানের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে ভারত নিয়মিত নদীর পানিপ্রবাহের তথ্য দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে। পাকিস্তানে পানি নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য আরও গভীর। দেশটির কর্মকর্তারা সিন্ধু নদীর পানি প্রবাহকে জাতীয় অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত করছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তানের পানির ‘প্রতিটি ফোঁটা’ তাদের জন্য রেডলাইন। তবে জলবিদ্যুৎ ও পানি বিশেষজ্ঞ হাসান আব্বাস মনে করেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি হয়নি। তার মতে, ভৌগোলিক অবস্থানই পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোকে অনেকাংশে সুরক্ষা দেয়। ভারতের চেনাব নদীতে থাকা জলাধারগুলোর ধারণক্ষমতাও পাকিস্তানের মৌসুমি সেচের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আব্বাস বলেন, ভারত যদি পানির প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটির রান-অফ-দ্য-রিভার জলবিদ্যুৎ বাঁধগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত পানি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া তাদেরও উপায় থাকবে না। তবে তিনি পাকিস্তানের পানি ব্যবস্থাপনাকেও সমালোচনা করেছেন। তার মতে, নতুন বড় বাঁধ নির্মাণের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে সেচব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো হলে আরও বেশি পানি সাশ্রয় করা সম্ভব। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button