আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না : গোলাম পরওয়ার

প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “আমরা এই সরকারকে আন্দোলন করে আগামীকালকেই পতন করতে চাই না। উৎখাতের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না। জনগণের দাবি হলো-গণভোটের গণরায় মেনে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা, জনদুর্ভোগ, সার, বিদ্যুৎ, দুর্নীতি ও দলীয়করণসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।”
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক শেষে বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা তো বলিনি যে আপনাদের উৎখাত করে ফেলব। ফলে আপনারা পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি যে সমস্ত দেশে আছে, বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মসূচি হচ্ছে গণতন্ত্রের একটা চর্চা, একটা সৌন্দর্য।”
গোলাম পরওয়ার বলেন, “রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এখানে বিরোধীদল, সরকারি দলের অন্তত মত-সহিষ্ণুতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নের যে ব্যাড কালচার আমাদের ছিল, তার থেকে আমরা ফিরতে শুরু করেছি এই আস্থাটা প্রমাণ করার সুযোগ কিন্তু সরকারের কাছে এসেছে।”
জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আল্লাহ না করুন, যদি সরকারি কোনো দল, তার কোনো অঙ্গ বা পার্শ্ব সংগঠন অথবা প্রশাসনের কোনো অংশ যদি আমাদের এই বিশাল লং মার্চের বহরের কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে এমনিতেই তো জনগণের আস্থা থেকে আপনারা সরে যাচ্ছেন। আপনারা এই জনগণের আস্থাকে তো আরও হারাবেন এবং জনরোষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে লং মার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রত্যেক জেলা ও মহানগরে নিরাপদে এবং সুষ্ঠুভাবে লং মার্চ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি আলহামদুলিল্লাহ সম্পন্ন হয়েছে। লং মার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। পথে কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘী ময়দানে পৌঁছানোর আশা করছে ১১ দল।”
পথসভাগুলোতে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একটি পথসভা চলার সময় অগ্রবর্তী একটি টিম পরবর্তী স্পটে চলে যাবে। সেখানে তারা বক্তব্য দিয়ে আবার পরবর্তী স্পটে চলে যাবে। মূল শীর্ষ নেতারা পরে ওই স্পটে গিয়ে যোগ দেবেন। এভাবে সময় সাশ্রয় করা হবে।”
তিনি বলেন, “সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে যে, আপনারা আমাদের এই নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসার পর বিরোধীদল সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচি, এটা শান্তিপূর্ণ হবে, নিয়মতান্ত্রিক হবে।আপনারা এই কর্মসূচিকে সফল করার ব্যাপারে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকবেন।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা এই পর্যন্ত লং মার্চ নিয়ে কোনো নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা আশংকা করছি না। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। যখন সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকে তখন যারা শয়তান আছে বা অন্যান্য বিশৃঙ্খল আছে তারা ভয় পায়। আশা করি যে যখন সবাই একসাথে যাব সংখ্যাটা বেশি থাকার কারণে তারা ভয় পাবে।”
তিনি বলেন, “দুষ্কৃতিকারীরা এ ধরনের কোনো আর যদি করো এটা সরকার এটার দায়িত্ব বহন করতে হবে। সরকার দেশে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এটা আমরা ধরে নিব। এবং আমরা সরকারকে বলবো আপনার আশেপাশে যে সমস্ত মন্ত্রী আছে উল্টাপাল্টা কথা বলতেছে এদেরকে সামলান।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা আশা করব যে, সরকার এটাতে পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে। কোনো যদি বিশৃঙ্খলা হয় বা কোনো হামলা হয়, বিএনপি সরকারকে এই দায়ভার পুরো বহন করতে হবে। যদি এই ধরনের কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, এটার শক্ত জবাব ইনশআল্লাহ দেওয়া হবে।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ,লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলনা আবদুল হালিম; জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।



