রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব সামনে রেখে দৌলতপুরে যুবদল কর্মী রাশু হত্যা মামলার তদন্ত চলছে

# নিরাপত্তার অভাবে বন্দি জীবনযাপন করছে পুরো পরিবার #
# সিসি ফুটেজের ভিডিও গায়েব #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার দৌলতপুর কল্পতরু মার্কেটের ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাশিকুল আনাম রাশু(৪০) হত্যা মামলার তদন্ত থমকে দাঁড়িয়েছে। মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশা দেখা দিয়েছে পরিবারের সদস্যদের মাঝে। গত ছয় মাসের অধিক সময় পার হলেও এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি নিয়ে কোন কার্যক্রম নেই বলে অভিযোগ করেছেন রাশুর বাবা। প্রতিবাদী যুব নেতা রাশুর বাবা মামলার বাদী শরীফুল আনাম বলেন, “এসব হত্যা মামলায় কিছুই হবে না। আমার ছেলের মৃত্যুর পর কোনো তদন্ত কর্মকর্তা আমার সাথে দেখা করেনি। ঘটনাস্থলের আশপাশের কারও সাথে দেখা বা তাদের কারও কাছ থেকে কোনো বক্তব্য নেয়নি।” আমরা এ ব্যাপারে কোন মতামত তুলে ধরতে চাই না। একজনকে হারিয়েছি নতুৃন কাউকে হারাতে চাই না। আমরা নিরাপত্তার অভাবে বন্দি জীবন যাপন করছি। যে টুকু সময় বাইরে কাটাই সে সময় স্বজনদের সাথে রাখি।” হত্যাকান্ডের সিসি ফুটেজ আমাদের না জানিয়ে পুলিশ সংগ্রহ করে। কিন্তু যখন আমরা সিসি ফুটেজ দেখতে চাই। তখন দেখি ঘটনার সময়ের ৪/৫ মিনিট আগ থেকে ঘটনার পর ৪০ মিনিটের কোন চিত্র সিসি ফুটেজে নেই। তাহলে এ ভিডিও গেল কই। পুলিশের ভূমিকায় তিনি মোটেও সন্তোষ্ট নয় বলে জানান। তিনি বলেন, “খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী টিপুর সাথে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল। গত ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালুচরে পর্যটকদের সমুদ্র দর্শনের জন্য বসানো ছাতার নিচে চেয়ারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কতিপয় সন্ত্রাসীর গুলিতে তিনি নিহত হন।” এ দ্বন্দ্বের জেরে তার পরিবার বা কোনো সদস্য রাশুকে হত্যা করতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ইট-বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে ছেলেকে হত্যা করা হয় বলে দাবি ভিত্তিহীন বলে তিনি মনে করেন। ব্যবাসায়ী দ্বন্দ্ব বলে একটি চক্র ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা রাশুকে হত্যা করেছে। তবে অর্থযোগানদাতাকে খুঁজে বের করতে হবে।
রাশুর বাবা বলেন, “আমি ও আমার পরিবার বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় ছেলেদের বিরুদ্ধে ৯৭টি মামলা রয়েছে। ছেলে হত্যার তদবির কোনো রাজনীতিবিদদের দিয়ে করাইনি। নিহতের মা বলেন, সংসারে সবার ছোট ছেলে ছিল রাশু। ছিল সবার আদরের। সে খুন হওয়ার পর আমরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি। ”মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ইন্সপেক্টর অমিত কুমার দাশ বলেন, এ মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ইসমাইল, বাপ্পী মুন্সী, সুমন খলিফা ও মেহেদী হাসান। তবে গ্রেফতারকৃতরা সবাই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। ঘটনার সময়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ ও মালিক মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যার পিছনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী কারণ হতে পারে। এ দু’টি বিষয় সামনে নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান। তবে সিসি ক্যামেরা আগেভাগেই অন্য দিকে মুখ ঘুরানো ছিল। তারপরও সিসি ফুটেজ দেখে অনেক কিছু প্রমাণ মিলেছে। বাদীর সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে গিয়েছি। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এ হত্যাকা-ের সাথে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করা হবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুরে প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু নিহত হয়। সে দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শোকহত পুরো পরিবারটি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তারপরও যেন কোন অগ্রগতি নেই মামলার তদন্তে।



