স্থানীয় সংবাদ

ডেঙ্গুর দাপট খুলনা বিভাগে

# ৯ মাসে আক্রান্ত ৭১৮৩ : মৃত্যু ২১: হাসপাতালে ৮৮৫ রোগী
# ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড নতুন ভর্তি ৩৩৪ : এ পর্যন্ত খুমেক হাসপাতালেই মৃত্যু ১৮ জনের

স্টাফ রিপোর্টার :
বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খুলনা বিভাগে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭ হাজার ১৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ১১২ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) দপ্তর থেকে পরিচালক ডা: শেখ মো: মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন করে ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৮৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪৭ জন ভর্তি হয়েছেন।
মৃত্যুর অধিকাংশই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে :
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হিসাবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চলতি বছরে এ হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৬৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ জন। এ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৪৪১ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ২১৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খুলনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ :
বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি খুলনা জেলায়। চলতি বছরে জেলায় মোট ২ হাজার ৬১১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টাতেই ভর্তি হয়েছেন ১৬৪ জন। জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ১৩৯ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৫৭ জন। এ পর্যন্ত ১১৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।
বাগেরহাটেও হাজার ছাড়িয়েছে আক্রান্ত :
বাগেরহাটে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার ছাড়িয়েছে। চলতি বছরে এ জেলায় মোট ১ হাজার ২১২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১ জন। চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৬৯ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ১০৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ৩৩ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।
অন্যান্য জেলার চিত্র :
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে সাতক্ষীরায় ১০৩ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৩ জন, যশোরে ৬৬০ জন, ঝিনাইদহে ১১৯ জন, মাগুরায় ১৫৯ জন, নড়াইলে ২৫০ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩২ জন এবং মেহেরপুরে ১০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এগুলোর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ৯ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, যশোরে ৩৭ জন, ঝিনাইদহে ১৬ জন, মাগুরায় ১৪ জন, নড়াইলে ৬ জন, কুষ্টিয়ায় ৯ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৭ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালে চাপ বাড়ছে :
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে উচ্চ জ্বর, প্রচ- মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি, পেটব্যথা কিংবা রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়লেও গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যুর ঘটনা না ঘটায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে বর্তমানে ৮৮৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখনও যথেষ্ট বেশি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button