মহাসড়কে ডাকাতি : নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

যোগাযোগব্যবস্থা সময়োপযোগী ও নির্বিঘœ করতে দেশের মহাসড়কগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। এসব সড়ক রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই সচল থাকে। অথচ সম্প্রতি দেখা গেছে, রাত নেমে এলেই কিছু মহাসড়ক বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। দুর্ধর্ষ ডাকাতি থেকে শুরু করে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে। গতকাল কালের বিভিন্ন পত্র পত্রিকার খবরে বলা হয়, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু স্থানে নিয়মিত ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। খবরে বলা হয়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সামনের নির্জন গজারিবন এলাকায় প্রায় প্রতি রাতেই ঘটছে যানবাহন থামিয়ে ডাকাতির ঘটনা। জানা যায়, ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা মহাসড়কের দুই পাশে গজারিবনে অবস্থান নিয়ে কৌশলে পাথর, পাইপ, লোহা ও ইটের টুকরা দিয়ে ঢিল ছুড়ে যানবাহন থামাতে বাধ্য করে। পরে অস্ত্রের মুখে লুটে নেয় যাত্রী ও চালকদের সর্বস্ব। বাধা দিলে মারধর করে হাত-পা বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ডাকাতির কবলে পড়ে ৩০ আগস্ট ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের কাছে মো. মোমেন মিয়া নামে এক পিকআপচালকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গভীর রাত নয়, রাত ১০টার দিকেও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা গাছের গুঁড়ি, লোহার রড, ইট-পাথর দিয়ে কিংবা অন্য কোনো বাধা সৃষ্টি করে যানবাহন থামায়। আবার কখনো যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িকে অনুসরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে লুটপাট করে থাকে। এতে শুধু যাত্রীদের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীই নয়, অনেক সময় তাদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ী থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এবং কাউলতিয়া ও সালনা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা জোরদারে মাস্টারবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি এবং চারটি মোটারসাইকেলসহ পুলিশের মোট ছয়টি টহল টিম রাতে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। মহাসড়কগুলো দেশের যাতায়াতব্যবস্থার শিরা-উপশিরা। তাই অর্থনীতি সচল রাখতে মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। ডাকাতপ্রবণ এলাকাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অজানা নয়, সেখানে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে। সিসি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তাও নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন ডাকাতচক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান।
