জাতীয় সংবাদ

ফারাক্কার গেট খোলার পর উজানের ঢল : পানিবন্দী ৩ হাজার পরিবার

# চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ২৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ফারাক্কা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার পর উজানের ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মাসহ প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার তথ্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে ৫ সেন্টিমিটার। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, দুর্লভপুর, উজিরপুর ও পাকা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দী মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। কোথাও কোথাও ঘরের ভেতর হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় সদর উপজেলার ১২টি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ১৭টি। মোট ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। এদিকে পানির নিচে তলিয়ে গেছে জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাকা ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা বাহারুল আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে গ্রামে বন্যার পানি ঢুকছে। এখন বসতবাড়িতেও পানি উঠে গেছে। অনেকের ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। দুর্লভপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদিয়া আফরিন বলেন, বাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। রান্না করতে হচ্ছে অন্যের বাড়িতে। ঘরের ভেতর হাঁটুসমান পানি। এর মধ্যেই বসবাস করছি। গ্রামের প্রায় সবার একই অবস্থা। উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পদ্মা নদীর পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির সমতল ছিল ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৭৯ মিটারে। এ নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার। এদিকে মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৪৬ মিটারে। এ নদীর বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার। পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার। সন্ধ্যা ৬টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৫২ মিটারে। এ নদীর বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button