চুরির অপবাদে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ নিহত সাজমিরের দাফন সম্পন্ন : মামলার প্রস্তুতি

# জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ চুরির অপবাদে রাতভর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দরিদ্র পরিবারের সন্তান সাজমির (২২)এর জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন খানাবাড়ী ঈদগাহে জানাজা শেষে যোগীপোল কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের মা মোছা. শাহানারা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। নিহত সাজমির ছিলেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কুয়েট পকেট গেটে চায়ের দোকানে কাজ করে মা বাবার সংসারে সহযোগিতা করতেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, একদিন অভাব-অনটন কাটিয়ে সাজমির নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। চুরির অপবাদে নির্যাতনের অভিযোগের পর মাত্র ২২ বছর বয়সেই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ। জানাযার পূর্বে নিহতের মামা রাইসুল জানান , গত ৫ সেপ্টেম্বর চুরির অপবাদ দিয়ে সাজমিরকে ধরে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে রাতভর তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়ে। এই ঘটনায় কুয়েটের ১৯ ও ২০ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী এবং এলাকার কয়েকজনে মিলে আমার ভাগ্নেকে রাতভর এমনকি সকালেও অমানুষিক নির্যাতন চালায় । পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজমির মারা যান। সাজমিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। অসহায় মায়ের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশও হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ময়নাতদন্ত শেষে সাজমিরের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ তার নিজ এলাকায় পৌঁছালে এক নজর দেখতে স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটে আসেন। প্রিয়জনের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। বাদ আসর খানাবাড়ী ঈদগাহ ময়দানে সাজমিরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে যোগীপোল কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে, সাজমিরের মৃত্যুর ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক বিচারের দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের মা মোছা. শাহানারা বেগম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নিহত সাজমির আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতি-বুচিতলা এলাকার রুহুল কুদ্দুসের ছেলে। দরিদ্র পরিবারের এই তরুণের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

