ওটিটিতে আসছে অপি করিমের ‘মায়ার জঞ্জাল’

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যে সিনেমার মাধ্যমে ১৯ বছর পর বড় পর্দার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপি করিম, সেই সিনেমা ‘মায়ার জঞ্জাল’। সিনেমাটি এবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার আলোচিত ও আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানো সিনেমাটি চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা। সিনেমাটি ছিল অভিনেত্রী অপি করিমের দ্বিতীয় এবং যৌথ-প্রযোজনার প্রথম সিনেমা। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রশংসিত নির্মাতা ‘ফড়িং’, ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’, ‘ভালোবাসার শহর’ খ্যাত ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী এবং এর প্রযোজক বাংলাদেশের জসীম আহমেদ। কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ছোটগল্প ‘বিষাক্ত প্রেম’ ও ‘সুবালা’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। প্রায় দুই দশক পর সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী অপি করিম বলেছিলেন, প্রথমে লেখাপড়া এবং পরে কাজের চাপে সিনেমায় নিয়মিত হতে পারিনি। কিন্তু এই সিনেমাটা (মায়ার জঞ্জাল) করেছিলাম নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর কারণে। তার ‘ফড়িং’, ‘ভালোবাসার শহর’ দেখে অনেক ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে ‘ভালোবাসার শহর’-এ জয়া আপুর (জয়া আহসান) অভিনয় এত ভালোলেগেছিল যে, আমারও একটু কাজ করার আগ্রহ হয়েছিল। সেই আগ্রহ থেকেই কাজটি করা। এর সঙ্গে আরও আগ্রহ বাড়িয়েছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। আর গল্প এবং চরিত্রগুলোও খুব ন্যাচারাল। সিনেমায় অপি করিমের চরিত্রের নাম সোমা। তার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। তার চরিত্রের নাম চন্দন। অন্য চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন ঢাকার সোহেল মন্ডল, কলকাতার পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, চান্দ্রেয়ী ঘোষ। সিনেমায় সমান্তরাল দুটি গল্পে দেখা যায়- সমাজ থেকে ছিটকে পড়া দুজন মানুষ সোমা ও চন্দন কীভাবে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝে টিকে থাকার পথ খোঁজে। আবেগ, বাস্তবতা ও জীবনের নির্মম রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক। নিজের চরিত্র নিয়ে ঋত্বিক চক্রবর্তী বলেছিলেন, আমাদের রোজকার যে সিনেমা সেখানে চন্দন বা চাঁদু চরিত্রটাকে পাওয়া যাবে না। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে চাঁদুর মতো চরিত্রদের সঙ্গে যে প্রতিনিয়ত দেখা হয়, তেমনটাও না। কিন্তু ‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমায় এই চরিত্রটাকে মন দিয়ে দেখা হয়েছে। চরিত্রটি যে সমাজের বা শ্রেণীর, সেখানে তার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানসিক কী কী সমস্যা তৈরি হয়, সেটা খুব বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। নির্মাতা জানান, নগরজীবনের কঠিন বাস্তবতার পটভূমিতে নির্মিত ‘মায়ার জঞ্জাল’ দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ভঙ্গুর সম্পর্ক ও নৈতিক আপসের সঙ্গে লড়াই করা কয়েকজন মানুষের গল্প। তাদের জীবন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা, হতাশা ও টিকে থাকার সংগ্রাম তাদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে, উন্মোচন করে দৈনন্দিন জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবেগ ও সামাজিক জটিলতা। ‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমাটি ২০২০ সালে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ার হয় এবং এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড বিভাগে মনোনয়ন পায়। একই বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়, যেখানে হয় ইউরোপিয় প্রিমিয়ার। পরে ইতালির ২১তম এশিয়াটিকা চলচ্চিত্র উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জুরি পুরস্কার এবং কলকাতার আর্টহাউস এশিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা দক্ষিণ এশীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে সিনেমাটি। ২০২২ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে অংশ নিয়ে ‘মায়ার জঞ্জাল’ সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পায়। এরপর ২০২৪ সালের ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলা’-তে সাতটি (৭) বিভাগে পুরস্কার জেতে সিনেমাটি। দুই বাংলার প্রেক্ষাগৃহে ’মায়ার জঞ্জাল’ মুক্তি পায় ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেসময় অভিনেত্রী অপি করিমের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং ঋত্বিক চক্রবর্তীর সঙ্গে তার জুটি সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছিল। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর অভিনয়ের মুন্সিয়ানা ও নির্মাণশৈলীর জন্য এটি দুই বাংলাতেই দারুণ প্রশংসিত ও আলোচিত হয়।



