২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি : লিবিয়ায় মাফিয়ার হাতে বন্দী শিবচরের মেহেদী

# মানুষ দ্বিগুণ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হয় তবু সরকারিভাবে বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ নেই #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ আর্থিক সচ্ছলতার আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়েন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি এলাকার মেহেদী হাসান (৩০)। অন্যদের মতোই স্থানীয় দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় পৌঁছান তিনি। তবে কথা ছিল, দ্রুত ‘গেম’ দিয়ে ইতালি পৌঁছে দেবে। অথচ মেহেদী হাসান দ্বিতীয়বারের মতো এখন মাফিয়াদের হাতে বন্দী। অত্যাচারের ভিডিও পরিবারকে পাঠিয়ে দাবি করা হচ্ছে ২০ লাখ টাকা! সন্তানকে ইতালি পাঠানোর জন্য প্রথমেই জমি বিক্রি, ঋণ, ধার-দেনা করেই টাকা জোগাড় করেছিলেন পরিবার। মুক্তিপণের টাকা কোথায় পাবেন, এই চিন্তায় দিশেহারা মেহেদীর পরিবার। জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিকান্দি এলাকার আব্দুর রহমান শিকদারের ছেলে মেহেদী হাসান। দেশে থাকতে একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতেন তিনি। তবে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন তাড়া করে তাকেও। মেহেদীর পরিবার ভিটে-বাড়ি বন্ধক রেখে ২২ লাখ টাকা তুলে দেন স্থানীয় দালাল সাগরের কাছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লিবিয়ায় পৌঁছান মেহেদী। তবে কিছুদিন পরই ধরা পড়েন মাফিয়াদের হাতে। মাফিয়াদের হাত থেকে ছাড়াতে আরও ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়! সেখানে মুক্তি পেলেও সম্প্রতি ফের মাফিয়াদের হাতে বন্দী হন মেহেদী। তিন মাস ধরে মাফিয়াদের নির্মম নির্যাতনের শিকার মেহেদী হাসান। মুক্তি পেতে দিতে হবে আরও ২০ লাখ টাকা। দুই দফায় ৩৯ লাখ টাকা খরচ করে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। স্থানীয়রা জানান, মেহেদীর বাবা কৃষিকাজ করে সংসার চালান। মেহেদী শিবচরের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করতেন। পরে ইতালির উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় যান প্রায় এক বছর আগে। এখনও মাফিয়ার হাতে বন্দী। তার পরিবারের পক্ষে ফের মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। মেহেদীর বাবা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এক বছর আগে সাগর দালালের মাধ্যমে ২১ লাখ টাকা চুক্তিতে ছেলেকে বিদেশ পাঠাই। লিবিয়া নেওয়ার পর সাগরই মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দেয় আমার ছেলেকে। তখন ধার-দেনা কইরা টাকা দিছি। আমার একটা কলার বাগান ছিল। ওইটা ‘পাওয়ার দলিল’ কইরা নেয় সাগর। সাগরের সহযোগী আবু তালেবের মাধ্যমে সব টাকা-পয়সা নিছে। মূল দালাল সাগর। সে লিবিয়া থাকে। মাফিয়ার কাছ থেকে ছাড়ানোর পর গত তিন মাস আগে আবারও মেহেদীরে বিক্রি কইরা দিছে। এখন ২০ লাখ টাকা চায়! প্রতিদিন মারধর করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেরে চেনা যায় না। হাত-পায়ের নখ উঠাই ফালাইছে। খাইতে দেয় না। মাঝে মধ্যে মারধর করার সময় ভিডিও কল দেয়!’ শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, ‘অবৈধভাবে বিদেশ গমন ব্যক্তি, পরিবার ও দেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বদা সচেষ্ট আছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তবে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সামাজিকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি খুবই জরুরি



