আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে লংমার্চকে স্মরণকালের সবচেয়ে সফল ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করতে হবে – মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

# খুলনা সদর থানা জামায়াতের দায়িত্বশীল সমাবেশ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দেশ আজ গভীর সংকট পার করছে। জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর এই অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছে। লংমার্চকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা কোনো শোষক শক্তি থমকে দিতে পারবে না। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির এক ক্রান্তিলগ্নে সামাজিক সুবিচার, জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য আজ সময়ের দাবি। ১১ দলীয় ঐক্যের আগামী ৩১ অক্টোবরের ঘোষিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া ঐতিহাসিক লংমার্চ কেবল কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি রাজপথে জনতার অধিকার আদায়ের এক উত্তাল সংগ্রামের নাম। খুলনার আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এই লংমার্চকে স্মরণকালের সবচেয়ে সফল ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে খুলনা মসজিদ মিশন মিলনায়তনে খুলনা সদর থানা জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট সভাপতি ও সেক্রেটারি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুস সালামের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা সহকারী সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবীর, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন, ২৪ নং ওয়ার্ডের আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৩১ নং ওয়ার্ড আমীর, নূর হোসাইন বাবুল, ২৮ নং ওয়ার্ডের আমীর মাওলানা সিরাজ বিন ইয়াকুব, ২৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বেলাল জামান, ৩০ নং ওয়ার্ডের আমীর মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ, ৩০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আলিমুল হক মিরাজ, ২১ নং ওয়ার্ড আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, ২৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম, ২৩ নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মাওলানা সাব্বির তরফদার, ২৮ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, ৩১ নং ওয়ার্ড সেক্রেটারি মিরোজ মাহমুদ, ইউনিট সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন, মুজিবুর রহমান, রমজান, শফিকুল ইসলাম, নূর আলম, মিজানুর রহমান, আব্দুল্লাহ লিটন, সাইফুল ইসলাম, হায়দার আলী, দাউদ আকুঞ্জি, লুৎফর রহমান, মাসুদ রানা, এমদাদুল হক প্রমুখ। সমাবেশে প্রধান অতিথি মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, সাধারণ মানুষের মুখে হাসি নেই, খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার নিশ্চয়তা নেই, আর দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। দেশের সচেতন জনগণ আজ তাদের হারানো অধিকার ও মর্যাদা ফেরত পেতে চায়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের কাঁধে এসেছে। এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের সচেতন রাজনৈতিক সমাজ ও ইসলামী দলসমূহ এক হয়ে গড়ে তুলেছে ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ৩১ অক্টোবর আমাদের কাক্সিক্ষত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ পালিত হতে যাচ্ছে। এই লংমার্চ কেবল একটি পদযাত্রা নয়; এটি শোষণ, অবিচার ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এ দেশের কোটি কোটি মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মহাপ্রকাশ। এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে আমরা প্রমাণ করতে চাই যে, এ দেশের জনগণ আর কোনো আধিপত্যবাদ কিংবা অভ্যন্তরীণ অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না।
মহানগরী আমীর আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি ইনসাফভিত্তিক, নৈতিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে বিশ্বাস করে। ইসলামী মূল্যবোধ ও সুশাসনের মাধ্যমেই কেবল এ দেশে স্থায়ী শান্তি ও অগ্রগতি সম্ভব। আর সেই অগ্রগতি অর্জন করতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের রাজনৈতিক পথচলা এই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, খুলনা জামায়াতে ইসলামীর দুর্গ হিসেবে সুপরিচিত। অতীতেও খুলনার সাধারণ মানুষ সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, লড়াই করেছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চে খুলনা অঞ্চল থেকেই সবচেয়ে বড় গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে। মহানগরী আমীর মাহফুজুর রহমান ইউনিটের সভাপতি ও সেক্রেটারিদের সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে লং মার্চের দাওয়াত পৌছানোর আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের এই লংমার্চ কোনো দলীয় স্বার্থে নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুরক্ষার জন্যÑএই বার্তা সাধারণ জনতার কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। আমাদের দাওয়াতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। ইউনিট পর্যায় থেকে শুরু করে থানা ও মহানগরীর প্রতিটি কোণায় গণসংযোগ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে এই লংমার্চে শরিক হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানাতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ।



