মুর্শিদাবাদ থেকে বাবা ও তিন ছেলেকে ধরে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এক মুসলিম বাবা ও তার তিন ছেলেকে আটক করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)। তাদের মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছে। পুলিশ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করলেও পরিবার তা অস্বীকার করেছে। মুর্শিদাবাদের সুঁতি থানার বালিয়াঘাটি গ্রামের এই চারজন হলেন ডাবলু শেখ (৬০) এবং তার তিন ছেলে কায়েম শেখ (২৯), রাজাউল শেখ (২০) ও আসমাউল শেখ (১৬)। আগস্টের মাঝামাঝি তাদের আটক করা হয়। ডাবলুর স্ত্রী জাহানারা বিবির ভাষ্য, সাদাপোশাকের পুলিশ বাড়ি থেকে তার স্বামীকে নিয়ে যায়। পরে স্বজনেরা কাছের পুলিশ ক্যাম্পে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, তার তিন ছেলেকেও আটক করা হয়েছে। তাদের বাংলাদেশি বলে দাবি করে পুলিশ। মাসুম জানিয়েছে, ডাবলু ও কায়েমের নাম ভোটার তালিকায় ছিল এবং তারা ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় দুজনের নাম থাকার বিষয়টি তারা যাচাই করেছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ডাবলুর আধার ও রেশন কার্ড রয়েছে। তার বাবা শেখ সামজানির নামও ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। সুঁতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিজিৎ বসু মল্লিক স্ক্রলকে বলেন, চারজনই বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তবে বিএসএফ সত্যিই তাদের সীমান্ত পার করে দিয়েছে কি না, স্ক্রল তা নিশ্চিত করতে পারেনি। কতজনকে বিএসএফের হাতে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও পুলিশের বক্তব্যের দুটি বিবরণে অমিল রয়েছে। মাকতুবের প্রতিবেদনে মাসুমের বরাতে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা ডাবলু ও তার দুই ছেলেকে হস্তান্তরের কথা বলেছেন। বিদেশিদের আঞ্চলিক নিবন্ধন দপ্তরের (এফআরআরও) আদেশে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দেওয়া চিঠিতে মাসুমের সম্পাদক কিরীটী রায় প্রশ্ন তোলেন, কী প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের বাংলাদেশি বলা হয়েছে এবং প্রত্যেকের নাগরিকত্ব আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না। সংগঠনটি বহিষ্কারের আদেশ, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রতিবেদন, বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের নথি এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরিচয় নিশ্চিত করার কোনো তথ্য থাকলে তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক আসমাউলের বয়স, পরিচয় ও আইনি অবস্থান পৃথকভাবে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে মাসুম। বৈধভাবে বিদেশি নাগরিকত্ব নির্ধারণ ছাড়াই তাদের সীমান্ত পার করানো হয়ে থাকলে চারজনকে নিরাপদে ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি পুরো ঘটনার স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত চেয়েছে। সূত্র: মিল্লাত টাইমস. স্ক্রল, মাকতুব।



