সম্পাদকীয়

লোকসানের নাম ‘মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ : কৃষকবান্ধব উদ্যোগ প্রয়োজন

দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন সময় নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, অনেক প্রকল্পই কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। তেমনই এক প্রকল্পের নাম ‘ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা, প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণ করে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এসব কোল্ড স্টোরেজ ব্যবহার করে কৃষকের লাভবান হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো তাঁকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আবার প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। সম্প্রতি উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জানা যায়, বিভিন্ন জেলায় স্থাপিত মিনি কোল্ড স্টোরেজের কার্যকারিতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, এসব মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালানো বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক। কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, পাবনা, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত স্টোরেজগুলোর একটি বড় অংশই বর্তমানে বন্ধ বা ‘অচল’ হয়ে পড়ে আছে। আর যে কটি সচল আছে, সেগুলোতে ফসল রেখে লাভবান হওয়ার পরিবর্তে পণ্য পচে যাওয়া ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জানা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় মোট ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১০০টি স্টোরেজ স্থাপনের কথা থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে ৫০টি এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো ৮০টি স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার ৫০টির কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর (সিমেন্ট বেইস) তৈরি এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য উদ্যোক্তা কৃষকদের পকেট থেকে খরচ করতে হয়েছে চার থেকে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু এখন এসব কোল্ড স্টোরেজের সুফল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাস্তবতা হলোÑএকদিকে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আবার কৃষকেরও কোনো উপকারে আসছে না। সংগত কারণে প্রশ্ন আসে, এসব প্রকল্প গ্রহণ করার আগে কেন সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয় না? আমরা মনে করি, দেশের কৃষি খাত বাঁচাতে কৃষকের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, কোনো প্রকল্প যেন কৃষকের গলার ফাঁস না হয়। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ কাম্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button