খেলাধুলা

মালয়েশিয়াকে নিয়ে সতর্ক কোচ সালাউদ্দিন

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ এশিয়ান গেমসে পদকের স্বপ্ন নিয়ে জাপানে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে পদকের হিসাব-নিকাশ কিংবা পরের ধাপ নিয়ে এখনই ভাবতে চান না প্রধান সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আপাতত তার সব মনোযোগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ ঘিরে। নকআউট পর্বে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটি সামনে রেখে সালাউদ্দিনের ভাবনায় রয়েছে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফেরার বিষয়টিও। তার মতে, ৫-৭ দিন ম্যাচ না খেলে সরাসরি নকআউট ম্যাচে নামা কঠিন হতে পারে। তাই প্রথম ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্স দেখে পরের ধাপ নিয়ে ভাবতে চান তিনি।
সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। ৫-৭ দিন ম্যাচ ছাড়া সরাসরি ম্যাচ খেলাটা আসলে খুব কঠিন হয়ে যাবে। প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওইখানে আমরা কীভাবে খেলছি, সেখান থেকে পরেরটা চিন্তা করব। আগেই পরেরটা, শেষের দিকে কী হবে, এসব না ভেবে আমাদের প্রথম ম্যাচটা নিয়ে ভাবা উচিত।’ এশিয়ান গেমসে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য নতুন প্রতিপক্ষ নয়। আগের আসরেও কোয়ার্টার ফাইনালে এই দলের বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে সালাউদ্দিনের। তাই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা থাকলেও তাদের কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে চান না তিনি। মালয়েশিয়াকে নিয়ে সতর্ক করে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমার সবই জানা আছে। কারণ মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন কাজ করেছি। এ ধরনের টুর্নামেন্টে আপসেট হতেই পারে। একই উইকেটে বারবার খেলা হয়, অনেক সময় টসও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। এ কারণে প্রতিটা ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগেই জিতে যাওয়া উচিত না। খেলেই আমাদের জিততে হবে। এভাবেই আমরা মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ বাংলাদেশের লক্ষ্য যে পদক, সেটিও পরিষ্কার করেছেন সালাউদ্দিন। মেয়েদের দল ব্রোঞ্জ পদক জিততে না পারায় ছেলেদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বড় পর্যায়ে খেলতে হলে চাপ সামলানোও খেলোয়াড়দের দায়িত্ব। সালাউদ্দিন বলেন, ‘টপ লেভেলে ক্রিকেট খেলতে হলে আপনাকে চাপ নিয়েই খেলতে হবে। চাপ ছাড়া কখনো থাকতে পারবেন না। চাপ নেওয়াটাই বড় খেলোয়াড়, বড় দলের লক্ষণ। চাপ না থাকলেও আপনি খারাপ করবেন, আবার চাপ বেশি নিলেও খারাপ করবেন। সবদিকেই খেলোয়াড়দের এটা হ্যান্ডেল করতে হয়। আমার মনে হয়, তারা কীভাবে এসব হ্যান্ডেল করতে হয়, সেটা ইতোমধ্যে শিখে গেছে। এটা তারা সামলাতে পারবে।’ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের শক্তির জায়গা হিসেবে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাকে দেখছেন কোচ। তার মতে, দলের প্রতিটি ক্রিকেটার নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার এবং দীর্ঘদিন একই পজিশনে খেলায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, সেটিও তাদের জানা। ‘দীর্ঘদিন আমরা এই খেলোয়াড়গুলোই একসঙ্গে খেলার অভ্যাস করেছি। আমরা জানি কার রোলটা কী। এখানে রোলটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমি কোন রোলে খেলছি। যে যেখানে খেলছে, তারা দীর্ঘদিন একই পজিশনে খেলেছে এবং জানে কোন মুহূর্তে আমাকে কী করতে হবে। আমার মনে হয়, আমার খেলোয়াড়রা সবাই জানে কার রোল কী এবং কে কীভাবে খেলবে’, বলেন সালাউদ্দিন। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে আইসিসির নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও গুরুত্বের জায়গা থেকে কোনো কমতি দেখছেন না বাংলাদেশ কোচ। বরং দেশের মানুষের প্রত্যাশার কারণে এই আসরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মনে হয়, এটা আরও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হয়তো শুধু ক্রিকেটাররাই খুব ফোকাস করে। কিন্তু এখানে পুরো দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে, একটা পদক আমাদের জন্য। ছেলেদের ওই মোটিভেশনটা আছে। আমরাও জানি এটার গুরুত্ব কতটুকু। সেটা নিয়ে আমরা কাজও করছি। আমাদের মোটিভেশনের কোনো অভাব নেই। ইনশাআল্লাহ ভালো করব।’ বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি না হলে র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। তবে কোনো হিসাবের ওপর নির্ভর না করে মাঠে খেলেই নিজেদের প্রমাণ করতে চান সালাউদ্দিন। ‘এখানে প্র্যাকটিস করারও খুব বেশি সুযোগ নেই। আপনি যদি ম্যাচ খেলতে পারেন, তখন বুঝতে পারবেন আপনার কী অবস্থা। অন্য প্রতিপক্ষকে কখনো খাটো করে দেখা উচিত না। আমরা আগে কোয়ার্টার ফাইনালটা খেলি। এটাও একটা প্রেসার ম্যাচ, কারণ এটা নকআউট স্টেজ। নকআউট স্টেজে সবসময় চাপ থাকবেই। ওই ম্যাচটা নিয়ে আমাদের সিরিয়াস থাকা উচিত। পরেরটা পরে চিন্তা করা যাবে’, বলেন বাংলাদেশ কোচ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button