চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসী কর্তৃক হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাঁর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খুলনার খানজাহান আলী থানার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা মোসাঃ সাবানা বেগম। তাঁর দাবি, এতে ২৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিবারের নিরাপত্তা ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে সাবানা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী আবু হানিফ শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসার চালাতে তিনি প্রথমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করতেন। পরে সঞ্চয়ের টাকা ইটভাটায় দাদন ও জমি কেনাবেচার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। ২০০৭ সালে বাবার দেওয়া সাড়ে ছয় লাখ টাকা ও নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিনি দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করেন। এ সময় একটি এনজিও থেকে নয় লাখ টাকা ঋণ নেন।
বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ২০১০ সালে তিনি গাঁজা ব্যবসায় জড়িয়েছিলেন। প্রশাসনের চাপ ও মাদক মামলার পর ২০১৩ সালে ওই ব্যবসা ছেড়ে দেন। তাঁর অভিযোগ, এরপরও এলাকায় অন্যের অবৈধ কার্যকলাপের দায় তাঁর ওপর চাপানো হয়েছে এবং মাদক ব্যবসায় না থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
সাবানা বেগমের অভিযোগ, এ অবস্থায় স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা মামলা ও প্রশাসনিক হয়রানি থেকে রক্ষার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন ওই নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ওপর চাপ ও হুমকি বাড়ে বলে দাবি করেন সাবানা বেগম।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের ২৮ ও ২৯ জুলাই ওই নেতার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। জমির দলিল, চেক ও স্ট্যাম্পসহ মূল্যবান কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয় তারা।
ঘটনার সময় ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সাবানা বেগমের দাবি, তখন সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালায়। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খানজাহান আলী থানায় একটি মামলা হয়েছে। তিনি নিজেও আদালতে একটি সিআর মামলা করেছেন।
মামলার পরও অভিযুক্তরা আবার তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ সময় পুত্রবধূকে লাঞ্ছিত করে তাঁকে ও শিশুসন্তানকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছে না। সাবানা বেগম আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত নেতা অল্প সময়ে একাধিক বাড়ির মালিক হয়েছেন এবং সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দোষীদের আইনের আওতায় আনা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সুবিচার প্রাপ্তির দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।



