আন্তর্জাতিক

ইমরানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানে বিক্ষোভ অব্যহত

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রোববার রাজপথে নামলেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাকর্মীরা। দেশজুড়ে কর্মসূচির মধ্যে করাচির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে তৎপর হয় পুলিশ। সড়কে ব্যারিকেড দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্থান থেকে দলটির নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়। পিটিআইয়ের দাবি, শুধু করাচিতেই আটক হয়েছেন ৭৫ জনের বেশি। আর দেশজুড়ে আটক শতাধিক। রোববার (৪ অক্টোবর) পিটিআইয়ের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে করাচির সাতটি স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছিল। কর্মসূচির মূল দাবির মধ্যে ছিল দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধান ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান এবং মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগের অবসান। বিক্ষোভ ঠেকাতে আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। এতে নগরীর কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি তৈরি হয়। করাচি প্রেস ক্লাব ও ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পুলিশের বাধার মধ্যেও করাঙ্গি, করাচি ইস্ট ও করাচি ওয়েস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পিটিআই নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। করাঙ্গির কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন পিটিআই করাচির সভাপতি ফাহিম খান, পিটিআই সিন্ধুর অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক রিজওয়ান নিয়াজি এবং সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ওভাইস চৌধুরী। বিক্ষোভ শেষে সেখান থেকে একটি মিছিলও বের করেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া এমপ্রেস মার্কেটের কাছেও পিটিআইয়ের পৃথক কর্মসূচি ছিল। সেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী অংশ নেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ জমায়েত ঠেকানোর চেষ্টা করলেও কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে সক্ষম হন। পিটিআইয়ের দাবি, করাচির বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের ৭৫ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছেন। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী কর্মীদেরও কয়েকটি স্থান থেকে আটক করা হয়। সিন্ধুর অন্যান্য এলাকাতেও আটকের অভিযোগ করেছে পিটিআই। বিশেষ করে সুক্কুর থেকে নেতা-কর্মীদের আটকের দাবি করেছে দলটি। তাদের দাবি, পুরো প্রদেশে আটক পিটিআই নেতা-কর্মীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। পিটিআই-সিন্ধুর মুখপাত্র মুহাম্মদ আলী বেলুচ পুলিশের অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক কর্মকা-ে বিধিনিষেধকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশ দমনের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সিন্ধু সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা, জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান এবং মূল্যস্ফীতি থেকে স্বস্তির দাবি জানানোয় রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত দাবি করে আটক সব পিটিআই নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। করাচি প্রেস ক্লাব ‘সিল করে দেওয়া’রও সমালোচনা করেন পিটিআই নেতা। তার দাবি, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি বলেন, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক ও আইনি পথে পিটিআইয়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য বেশ কয়েকজন পিটিআই নেতা-কর্মীকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকেও বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়েছে। আল জাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ অক্টোবর পাঁচ হাজারের বেশি সমর্থক ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করেন। তথ্যসূত্র: ডন, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, আল জাজিরা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button