স্থানীয় সংবাদ

বাজারদর বাড়লেও পুরোনো এস্টিমেট : ৪৯ কোটি টাকার টেন্ডার বর্জনের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার : নির্মাণসামগ্রীর বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সরকারি এস্টিমেটের দরের বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলে খুলনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ৪৯ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঠিকাদাররা। তাঁদের দাবি, বর্তমান দর বহাল রেখে এসব কাজ করলে লাভ তো দূরের কথা, বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে এস্টিমেট সংশোধন না করা হলে আগামী ৭ অক্টোবরের টেন্ডারে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন খুলনা জেলা এলজিইডি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নে এলজিইডির ঠিকাদাররা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু মাঝারি পর্যায়ের ঠিকাদারদের জন্য ব্যাংকঋণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অথচ সরকারি এস্টিমেটে এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিফলন নেই। সমিতির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারসহ উন্নয়নকাজে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে আগামী ৭ অক্টোবর।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, সরকারি এস্টিমেটে এক ব্যারেল বিটুমিনের দাম ধরা হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিলে ঠিকাদারের হিসাবে এ দাম দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে দেড়শ কেজির এক ব্যারেল বিটুমিনের বাজারদর প্রায় ১৯ হাজার টাকা। এতে কাজ শুরুর আগেই প্রতি ব্যারেল বিটুমিনে বড় ধরনের লোকসান হবে।
তাঁরা আরও জানান, গত বছর টনপ্রতি পাথরের দাম ছিল প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা। বর্তমানে পরিবহন খরচ বাদেই এর দাম ৪ হাজার ৭০০ টাকা। ইটের দাম গত বছর প্রতি হাজার ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে কয়লার দাম টনপ্রতি ১৭ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। বালুর দামও প্রতি ঘনফুট ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদার সমিতির ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নির্মাণসামগ্রীর দাম ও পরিবহন ব্যয়ে। কিন্তু সরকারি এস্টিমেট তৈরির সময় বর্তমান বাজারদর ও বাড়তি পরিবহন ব্যয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-কে তাঁরা স্বাগত জানান। তবে বর্তমান এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করলে ঠিকাদারদের শতভাগ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি উন্নয়নকাজের এস্টিমেট রেট পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে এস্টিমেট সংশোধন না হলে আগামী ৭ অক্টোবরের টেন্ডার বর্জন করতে বাধ্য হবেন ঠিকাদাররা। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আজগর আলী খান, সহসভাপতি আমির হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর ফকির, কোষাধ্যক্ষ এস এম সালাউদ্দিন ও নির্বাহী সদস্য আলাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button