জাতীয় সংবাদ

ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ অজ্ঞাতনামা মামলায় ক্ষোভ, গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম

রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর

প্রবাহ রিপোর্ট : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনার শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একই ঘটনায় সংগঠনের আরও ৬ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাত ৯টার দিকে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুইটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন— রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসান এবং ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের সংগঠনের সাংগঠনিক পদ এবং ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে একই অভিযোগে রাবি শাখা ছাত্রদলের ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন—সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রনেতা সাজু।
নোটিশে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁদের ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা বলা হয়।
এর আগে গতকাল রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে গতকাল রাতে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্রদল। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নোটিশ ও বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অজ্ঞাতনামা মামলা, গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হল প্রশাসন। সোমবার মতিহার থানায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা মামলা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকেরা। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ জন্য মঙ্গলবার বিকেল চারটার মধ্যে গ্রেপ্তারের আলটিমেটামও দিয়েছেন সাংবাদিকেরা।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবির বলেন, ‘একটি অজ্ঞাতনামা মামলা করা হয়েছে। আমরা মামলাটি নিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইরফান তামিম বলেন, হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম, পদবি ও পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও অজ্ঞাতনামা মামলা করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
ইরফান তামিম বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি আশিকুল ইসলাম ধ্রুবও অজ্ঞাতনামা মামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, হামলার সব ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে এবং কারা এতে জড়িত, তা স্পষ্ট। ইতিমধ্যে তাদের নাম, পদবি ও পরিচয়সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
আশিকুল ইসলাম ধ্রুব বলেন, ‘অজ্ঞাতনামা মামলা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমাদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, মতিহার থানায় একটি মামলা হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান হলের উপ-রেজিস্ট্রার মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে যারা জড়িত, যদি প্রাথমিকভাবে এগুলো প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button