বাংলাদেশি ভেবে দুই ভারতীয় মুসলিমকে গুলি বিএসএফের

গুলি করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ফেলে দেওয়া হয়
প্রবাহ রিপোর্ট : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই ভারতীয় মুসলিম নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দইখাওয়া সীমান্তে তারা গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান।
খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দুই ভারতীয়কে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখিয়েছে ডিবি। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান সনাতন চক্রবর্তী।
গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন- ইসমাইল হোসেন (৩৫) এবং খাজা আব্দুল আলীম (৩৯)। তাদের দুজনের বাড়ি ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ শালমারা-মাইনকারচর জেলার সুখচর থানার বড়বালু গ্রামে। আব্দুল আলীম আব্দুল মজিদ মন্ডলের ছেলে এবং ইসমাইল হোসেন মৃত আব্দুল করিম শেখের ছেলে। তাদের বাংলাদেশি মনে করে বিএসএফ গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। তাদের শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া একজনের শরীরে পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষত রয়েছে।
এই দুই ভারতীয় নাগরিক কেন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় হওয়ার পরও কেন বিএসএফ তাদের গুলি করলো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় লোকজনের ধারণা, ওই দুই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ সীমান্তে গরু চোরাচালানের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। বাংলাদেশি ভেবে তাদের গুলি করে ফেলে যায় বিএসএফ।
তবে আহত ভারতীয় নাগরিকদের দাবি, তারা সীমান্তবর্তী চরে গরু চরাতে এসেছিলেন। বিএসএফ তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। তখন তারা বাধা দেন। এতে বিএসএফের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ তাদের গুলি করে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে যায়।
আহত ভারতীয় নাগরিক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমরা ভারতের বাসিন্দা। গরু চরাতে চরে আসলে বিএসএফ আমাদের ডেকে নেয়। বাংলাদেশি গরু চোরাচালানকারী অপবাদ দিয়ে একটি চরে নিয়ে যায়। সেখানে তর্কবিতর্ক হলে আমাদের গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে বিএসএফ বাংলাদেশে ফেলে যায়। আমরা দেশে ফিরতে চাই। এ জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’
পুলিশ ও সীমান্তের লোকজন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভারতের আসাম রাজ্যের নারায়ণপুর স্থলবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের দই খাওয়ার চর এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা ইসমাঈল ও খাজাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছররা গুলি লেগে তারা গুরুতর আহত হন। গুলিবিদ্ধ ও আহত অবস্থায় তারা বাংলাদেশের ভূখ-ে প্রবেশ করেন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রংপুরের ক্লিনিকে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে রবিবার রাতে রংপুর ডিবি পুলিশ ওই ক্লিনিক থেকে ভারতীয় দুই নাগরিককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘দুই ভারতীয় নাগরিকের শরীরে অনেকগুলো স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। সেগুলো গুলি নাকি গ্রেনেডের আঘাত তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তারা কেন এবং কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা করেছে। তারা গ্রেফতার অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল আলীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ভারতীয় দুই নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেবে।
তবে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহাবুব উল হক বলেন, সীমান্তে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি।



