উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ক্রীড়া শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠুক

# দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের শুরু #
আমরা চাইছি একটি স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ক্রীড়া শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক ও টেকসই ক্রীড়া উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। ক্রীড়াঙ্গন থেকে আস্থার সংকট দূর হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমানের বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়যুক্ত হয়ে সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। জনগণের আস্থা ও সমর্থনে জয়যুক্ত এই সরকারের কাছে ক্রীড়ানুরাগী মানুষের প্রত্যাশা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এর কারণ হলো বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়াঙ্গনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে অঙ্গীকারে স্থান দেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রমধর্মী এই অঙ্গীকার ক্রীড়াঙ্গনসংশ্লিষ্ট মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। মানুষ ভেবেছে বিএনপি যদি নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে সরকার গঠন করতে পারেÑএরপর পাঁচ বছরে যদি পরিকল্পনামাফিক কাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করে ক্রীড়াঙ্গন পরিচালিত করতে পারে, তাহলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে বাধ্য। যেমনÑঅঙ্গীকারে উল্লেখ করা হয়েছে খেলাকে পেশা হিসেবে নেওয়া। এটি তো আশা-জাগানিয়া প্রতিশ্রুতি, যা খেলোয়াড়সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে অনুপ্রাণিত করবে। এই বিষয়টি নিয়ে তো আগে কখনো ভাবা হয়নি। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের শুরুস্বাধীন বাংলাদেশে বিগত ৫৫ বছরে যতগুলো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কখনো এত বাস্তবধর্মী, সময়ের প্রয়োজন মোকাবেলা করা এবং সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নির্বাচনী ইশতেহারে স্থান পায়নি। বিএনপি বিশ্বাস করে ‘স্পোর্টসের’ মাধ্যমে দেশের জন্য সম্মান অর্জন করা সম্ভব। সম্ভব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক পরিচিতি বৃদ্ধি করা। বিএনপি সর্বক্ষেত্রে একটি কথাই বলছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’! এই মুহূর্তে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের সামনে অনেকগুলো জটিল সমস্যা উপস্থিত। অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনকে ভীষণভাবে ধাক্কা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ক্রীড়াঙ্গনকে বুঝতে না পেরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ যে কত খারাপ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, সেটি আমরা দেখেছি। ক্রিকেট বোর্ডে এই অস্থিরতা আর অরাজকতা চলছে। এর পেছনের কারণগুলো তো এখন আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। আমাদের স্বপ্ন ছিল সমষ্টিগত। সেই সমষ্টিগত স্বপ্ন একসময় ব্যক্তি ও সমষ্টির স্বপ্ন হয়ে গেছে। ব্যক্তিগত আর গোষ্ঠীগত আমরা পরাজিত হয়েছি। এতে ক্রীড়াঙ্গনের ব্যবস্থাপনায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি। পাকিস্তান আমলের সেই ব্যবস্থাপনাই থেকে গেছে। এতগুলো বছরেও আমরা ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে হতে পারিনি আত্মানুসন্ধানী। আমরা এখন পর্যন্ত কী করতে পেরেছি, আর কী করতে পারলাম না। কেন পারলাম না। এই দুইয়ের মূল্যায়ন দরকার ক্রীড়াঙ্গনে। আর তাহলেই অতীতের ক্রীড়াঙ্গন থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক মিডিয়াকে বলেছেন, দেশের খেলাধুলাকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় এনে সারা দেশে ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা ও সরকারপ্রধানের দৃঢ়তা লক্ষণীয় হচ্ছে, এটি আশা সঞ্চারী। মুক্ত বিশ্বের যেকোনো দেশে খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও অগ্রগতি নির্ভর করে সে দেশের সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার ওপর। একটি বিষয় বারবার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ক্রীড়াঙ্গনে দলীয় রাজনীতির স্থান নেই। আমরা চাইব তিনি তাঁর বিশ্বাসকে সমুন্নত রাখবেন। বিএনপি সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও তাদের দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। আর এটি হলো ক্রীড়াচর্চা শুধু শখ নয়, ক্রীড়া হবে আগামী প্রজন্মের প্রেরণা ও মর্যাদার পেশা। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এবারই প্রথম যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এতে দেশে খেলাধুলাচর্চার গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক ধাপ ওপরে উঠল। প্রথম অবস্থায় ২০টি খেলায় ১২৯ জন খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদকে মাসিক বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে। পর্যায়ক্রমে এই মাসিক বেতন ৫০০ খেলোয়াড় ও ক্রীড়াবিদকে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আরেকটি সহযোগী বাংলা দৈনিক (৩১ মার্চ ২০২৬) রিপোর্ট করেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, অন্তত খেলোয়াড়িজীবন শেষ না করে যেন কেউ রাজনীতিতে না জড়ান। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ, পেশাদার খেলোয়াড়িজীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না দয়া করে। বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।’ আমরা চাইছি একটি স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ক্রীড়া শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক ও টেকসই ক্রীড়া উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
