দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিন

# পোশাক রপ্তানিতে সংকট বাড়ছে #
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। কিন্তু সেখানেই বড় ধাক্কা লাগছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ধীরে ধীরে কমছে। অথচ বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দেশ ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি ক্রমে বেড়েই চলেছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মার্চ ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের, যা মার্চ ২০২৫-এর তুলনায় ৮.০৮ শতাংশ কম। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে রপ্তানি কমেছে ৮.৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রতিযোগী ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশ পোশাক রপ্তানিতে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখলেও বাংলাদেশের এভাবে কমে যাওয়া খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবিয়ে তুলছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ বিষয়ে বলেন, ‘বৈশ্বিক বাণিজ্যে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। মার্কিন পাল্টা শুল্ক, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানিসংকট এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাÑসব মিলিয়ে রপ্তানি খাতের ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। ওই বাজারে রপ্তানি কমে গেলে দেশের পোশাকশিল্প সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরই মধ্যে অনেক বৈশ্বিক ক্রেতা অর্ডার কমিয়েছেন। পণ্যের দামের ওপর চাপ বাড়ছে। ক্রেতারা এখন বড় অর্ডারের বদলে ছোট ও স্বল্পমেয়াদি অর্ডারে ঝুঁকছেন। সামনে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।’ প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। মার্চে দেশটির রপ্তানি ২.৫২ শতাংশ এবং জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ২.৭৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি আরো শক্তিশালী হয়েছে, মার্চে ১৬.২২ শতাংশ এবং প্রথম প্রান্তিকে ১৭.৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু যে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে তা নয়, পোশাকের প্রতি ইউনিটের মূল্যও কমছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবনার কারণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিসিপ্রোকাল’ শুল্কনীতির প্রভাবই এই রপ্তানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও দেশটিতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া, উচ্চ সুদহার ও বৈশ্বিক নানা কারণকেও এই রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধারায় আঘাত লাগার কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কারোপের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে বাংলাদেশ বেশ কিছু চুক্তি করেছে। বিমান ক্রয় থেকে শুরু করে কৃষি ও খাদ্য পণ্য কেনা হচ্ছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প অনেক দিন ধরেই ধুঁকছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কারোপ ছাড়াও দেশে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, নীতি সহায়তার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ আরো কিছু বিষয়কে এ জন্য দায়ী করা হয়। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু রপ্তানির পরিমাণ নয়, বরং ইউনিটের মূল্যবৃদ্ধি ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের ফ্যাশন ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল খাতে প্রবেশ না বাড়ালে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান রপ্তানি খাতের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।’ পোশাকশিল্প শুধু রপ্তানি আয়ের বড় উৎস নয়, দেশে কর্মসংস্থানেরও বড় উৎস। এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের অর্থনীতি হুমকিতে পড়বে। তাই এই শিল্প রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
