সম্পাদকীয়

নারীপাচার ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

আমাদের দেশে নারীপাচার একটি গুরুতর সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, নানা প্রলোভন দেখিয়ে, ভালো কাজের কথা বলে নারীদের দেশের বাইরে নেওয়া হয়। এরপর স্রেফ তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের জায়গা হয় সাক্ষাৎ নরকে। বেশির ভাগ নারীকে দিয়ে বাধ্যতামূলক শ্রম ও যৌন ব্যবসা করানো হয়। অনেকের আর সারা জীবনে ফেরা সম্ভব হয় না। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া নারীদের বড় অংশের গন্তব্য হলো ভারতের মুম্বাই। ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ কার্যত ভারতবেষ্টিত।
একসময় সীমান্তে কাঁটাতার ছিল না। দুই দেশের মানুষের মধ্যে আসা-যাওয়া ছিল অনেকটাই সহজ। এখন সেই অবস্থা নেই। কিন্তু তার পরও প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের অনেকেই ভারতে যায়। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে থাকে পাচারচক্র। খবরে বলা হয়েছে, ভালো চাকরি, বিয়ে, এমনকি হাল আমলের টিকটকের মডেল বানানোর কথা বলেও ভারতে নারী ও শিশুদের পাচার করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর আনুমানিক ১০ থেকে ২০ হাজার নারী ও কিশোরী ভারতে পাচারের শিকার হয়েছে। আরেকটি তথ্য বলছে, ভারতে অবস্থানরত পাচার হওয়া বাংলাদেশি নারীর সংখ্যা দুই লাখ থেকে তিন লাখ পর্যন্ত হতে পারে। উদ্বেগের ব্যাপার হলো, একবার পাচার হলে তাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও দীর্ঘ। অনেকের কাছে বাংলাদেশি বৈধ নথি থাকে না। তাই পরিচয় যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে ভারতে অবস্থান করায় সমস্যায় পড়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পাঠানো দুই হাজার ৮৬০টির বেশি অনুরোধ এখনো ঝুলে আছে। সেগুলোর কিছু পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে নাগরিকত্ব বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ কাউকে নাগরিক হিসেবে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনবে না। অনেক সময় ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য পুরোপুরি পাওয়া যায় নাÑঅনেকের নাম, পরিচয়, ঠিকানা অসম্পূর্ণ থাকে। আমরা মনে করি, নারী ও শিশু পাচার রোধে দুই দেশের শীর্ষ মহলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবেদনশীল এই বিষয়ে কিভাবে আরো মানবিক উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা ভাবা দরকার। সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং দালালদের আইনের আওতায় আনা দরকার। একই সঙ্গে জনসাধারণের সচেতন ভূমিকা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button