সম্পাদকীয়

তিস্তা সমস্যার সমাধান হোক

বাংলাদেশ ও ভারত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অমীমাংসিত অনেক বিষয় রয়েছে। সেসব সমাধানের বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এর মধ্যে দীর্ঘতম অপেক্ষার একটি বিষয় হচ্ছে ‘তিস্তা চুক্তি’। কয়েক দশক ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে। অবশেষে ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিষয়ে রাজ্য-মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত চুক্তি হয়নি। এরপর ১৫ বছর ধরেই ঝুলে আছে সেই চুক্তি। অথচ এই তিস্তাকে মনে করা হয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণ। ২০১৯ সালে ‘তিস্তা রিভার কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ। চীন ১০০ কোটি ডলারের প্রকল্প তৈরি করে, কিন্তু ভারতের আপত্তির কারণে সেটিও অগ্রসর হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত মঙ্গলবার চীন সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের বলেছেন, এই সফরে অবশ্যই চীনের সঙ্গে প্রকল্পের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বাংলাদেশ আগ্রহী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য বাঁচা-মরার বিষয়। এমন একটি বিষয় নিয়ে আমরা দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে পারি না।’ তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ “ডাক দিয়েছে ‘জাগো বাহে’। সেই ডাকে যদি আমরা সাড়া না দিই, তাহলে পরে আমরা আছি কেন? এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, সেই অঞ্চলের সমস্যা সুরাহা করার এবং এটা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আমরা পূরণ করব এবং চীন সফরে এই বিষয়টি আমরা নিশ্চয় আলোচনা করব।” চীনের প্রকল্প এবং ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তিÑদুটির পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ইঙ্গিত করে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা যেটা হচ্ছে, তিস্তাপারের মানুষের একটা বড় ধরনের ‘ইকোলজিক্যাল’ বিপর্যয়ের মধ্যে তারা আছে, এটা তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়। আমরা যেভাবে পারি, যে কয়টা উপায় আছে, সব উপায়ে আমরা যাচাই করব। যেটা সর্বোত্তম, সেটাই আমরা নেব। এখানে সবচেয়ে বড় আপনার বিচার্য বিষয় হচ্ছে, আমাদের মানুষের ‘ইন্টারেস্ট’, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’।” তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি কবে হবে, বাংলাদেশ তার জন্য আর অপেক্ষায় থাকতে চায় না। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করা এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনো সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তাঁরা কী ভাবছেন, কী করবেন, সেটা তাঁরা যদি না জানান, তাঁদের ‘মাইন্ড রিড’ করার কাজ আমার না। প্রত্যাশা থাকবে, যাতে করে এই চুক্তিটা যেটা হয়েছিল তখন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আমরা ‘কনসিডার’ করতে পারি কি না। কিন্তু সে জন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে।” তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই আমরা চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক পারস্পরিক সহযোগিতামূলক প্রকল্প এবং কর্মকা-ে জড়িত রয়েছি। এই সম্পর্কটাকে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের’ চেয়ে ওপরে নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করব। তাদেরও আগ্রহ আছে।” বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির ওপর তিস্তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। উজানে থাকা গজলডোবা বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানিপ্রবাহ থাকে না বললেই চলে। ফলে চাষাবাদ যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি জীববৈচিত্র্যসহ তিস্তা ও যমুনা অববাহিকার মানুষের জীবনযাত্রাও বহুল পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত তিস্তা সমস্যার সমাধান হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button